গত কয়েক বছরে ইন্টারনেটজুড়ে অসংখ্য ডিপফেক ভিডিও ভেসে বেড়াচ্ছে। মজার, সৃজনশীল কনটেন্ট থেকে শুরু করে একেবারে অদ্ভুত আর ভয়ের জিনিসও বানানো হচ্ছে। এই টেকনোলজি এত শক্তিশালী যে ভবিষ্যতে কী হতে পারে, ভাবলেই অবাক লাগে।
তবে আপাতত এসব নিয়ে বেশি ভাবনা নয়। চাইলে আমরা সিপিইউ আর জিপিইউ ব্যবহার করে এই টেকনোলজি দিয়ে মজার সব ভিডিও বানাতে পারি, যেখানে আপনি তারকাদের মতোই দেখাতে পারবেন। আর সেটাই যদি খুঁজে থাকেন, তবে আপনি একেবারে ঠিক জায়গায় এসেছেন। এখানে দুর্দান্ত ডিপফেক বানানোর সব কলাকৌশল পেয়ে যাবেন।
ডিপফেক কী?
ডিপফেক হলো এমন ছবি বা ভিডিও, যেখানে আসল মানুষকে অন্য কারোর মতো দেখানো হয়। সাধারণত অনলাইনে কেউ সেলিব্রেটি (যেমন টম ক্রুজ) বা রাজনীতিবিদদের (যেমন ট্রাম্প, ওবামা) নিয়ে মজা করার জন্য এগুলো বানায়। মুখ বদলাতে বিশেষ ডিপফেক টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়।
কিছু প্রযুক্তি ফ্রি অ্যাপ হিসেবে সাধারণ ফিচার দেয়, আবার কিছু টুল অনেক জটিল। এগুলো ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে ফল এতটাই বাস্তব হয় যে, অনেক সময় সিনেমার সিজিআইকেও হার মানায়।
ডিপফেক প্রযুক্তি
বেশিরভাগ ডিপফেক টুল আর অ্যাপ মেশিন লার্নিং, এপিআই, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, নিউরাল নেটওয়ার্ক অ্যালগরিদম, কম্পিউটার ভিশন আর গ্যান ব্যবহার করে। এগুলো দিয়ে দুইজন মানুষের মুখের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে এমনভাবে বসানো যায় যে লিপ-সিঙ্ক পর্যন্ত ঠিকঠাক থাকে।
তবে ডিপফেক মানেই শুধু নিউরাল নেটওয়ার্ক আর ডিপ লার্নিং নয়, আধুনিক টেক্সট-টু-স্পিচ টুলও দারুণ কাজের। এগুলো লেখাকে কৃত্রিম কণ্ঠে একেবারে শোনা যায় এমনভাবে পড়ে শোনাতে পারে।
ডিপফেকের বিভিন্ন ধরন
- লিখিত ডিপফেক
- ডিপফেক ভিডিও
- ডিপফেক অডিও
- সোশ্যাল মিডিয়া ডিপফেক
- রিয়েল-টাইম ডিপফেক
ডিপফেকের উদাহরণ
পপ কালচারে ডিপফেকের এক বিখ্যাত উদাহরণ হলো ম্যান্ডালোরিয়ান টিভি শো-তে লিউক স্কাইওয়াকার। শো’র সিজিআই তেমন জমেনি দেখে, এক ভক্ত লিউক-এর ডিপফেক বানান। ইউটিউবার শ্যামুক এত ভালো করেছিলেন যে, পরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইট অ্যান্ড ম্যাজিক তাকে ভবিষ্যৎ প্রজেক্টের জন্য দলে নেয়।
ডিপফেক তৈরি
ফটোশপে হাত পাকানো থাকলে, টিউটোরিয়াল দেখে আর প্রোগ্রামিং জানলেই সহজে ডিপফেক বানানো যায়। তবে ভালো মানের টুলগুলো বেশ দামি, আর সবাই শুধু মজার জন্য এত টাকা খরচ করতে চায় না।
তবু, সবচেয়ে জরুরি সত্যটা হল—ইচ্ছে থাকলেই যে কেউ ডিপফেক বানাতে পারে। হয়তো কোয়ালিটি দারুণ হবে না, ওয়াটারমার্কও থাকতে পারে, তবু মোটামুটি কাজ চলে যাবে। এজন্য ফ্রি ডিপফেক অ্যাপ ডাউনলোড করে রেডিমেড টেমপ্লেটও ব্যবহার করতে পারেন।
আমি ডিপফেক কীভাবে বানাতে পারি?
একদম ফ্রি অথচ মানসম্মত ডিপফেক বানাতে চাইলে নিচের ওয়েবসাইট, অ্যাপ আর পিসি সফটওয়্যারগুলো একবার দেখে নিতে পারেন।
ডিপফেক ওয়েবসাইট
- Deepfakes Web
- Faceswap
ডিপফেক অ্যাপ
- Zao
- Wombo
- Reface
- MyHeritage
- Deep Art
- FaceApp
ডিপফেক সফটওয়্যার
- DeepFaceLab
স্পিচিফাই এর টেক্সট-টু-স্পিচ সার্ভিস

আগেই বলেছি, ডিপফেক শুধু ছবি-ভিডিও বা জিআইএফ নয় – অডিও দিয়েও করা যায়, যেখানে সেলিব্রিটিদের কণ্ঠে নানা মজার কথা শোনা যায়। এসব অডিও বানাতে পারেন টেক্সট-টু-স্পিচ সফটওয়্যার, যেমন স্পিচিফাই-এর সাহায্যে।
এটি এমন একটি টিটিএস অ্যাপ, যেটি যেকোনো লিখিত টেক্সটকে বাস্তবের মতো শোনায় এমন কণ্ঠে পড়ে; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে যেটা নিজের মতো কাস্টমাইজও করতে পারবেন—চাইলেই সেলিব্রিটিদের মতো শোনাবে। একবার শুনে দেখুন স্পিচিফাই-এর গুইনেথ প্যালট্রো ভয়েস।
অডিও ডিপফেক নিয়ে মজা করতে চাইলে বইয়ের মজার অংশ তারকা কণ্ঠে পড়াতে পারেন। স্পিচিফাই-তে ডিজিটাল বা প্রিন্ট ডকুমেন্ট নিলেই হবে, বাকি পড়ে শোনাবে সফটওয়্যার নিজেই।
তাহলে আর দেরি কেন? এখনই স্পিচিফাই ট্রাই করুন অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস ডিভাইসে, আর তৈরি করুন ঝকঝকে মানের ডিপফেক।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বিনা মূল্যে ডিপফেক সফটওয়্যার আছে?
হ্যাঁ, অনেক ফ্রি ডিপফেক অ্যাপ আছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় Faceswap, যা GitHub-এ পাবেন। ওপেন সোর্স এই অ্যাপ TensorFlow মেশিন লার্নিং, Keras API আর Python দিয়ে বানানো; এটি উইন্ডোজ, ম্যাক আর লিনাক্স—তিন প্ল্যাটফর্মেই চলে।
ডিপফেক এর জন্য কোন সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়?
ডিপফেক বানানোর জন্য নানারকম অ্যাপ আছে। কিছু যেমন Faceswap একেবারে ফ্রি, আবার কিছু ভালো ফিচার বা আরও উন্নত কোয়ালিটির জন্য বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন নেয়।
কীভাবে ডিপফেক বানাতে পারি?
অবশ্যই! ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন থাকলেই যে কেউ ডিপফেক বানাতে পারে। ফ্রি ডিপফেক অ্যাপ নামিয়ে শুরু করতে পারেন, আর চাইলে আরও ভালো কোয়ালিটির জন্য পেইড অ্যাপও নিতে পারেন।
ডিপফেক বানানো কতটা সহজ?
ডিপফেক বানানো কতটা সহজ হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করে কোন অ্যাপ ব্যবহার করছেন তার ওপর। সাধারণত একটা সোর্স ছবি (যেমন সেলফি) আর একটা ভিডিও লাগে—যার ওপর মুখ বসাতে চান। তবে সত্যি বাস্তবসম্মত ভিডিও বানাতে চাইলে সময় আর কিছুটা স্কিল দুটোই দরকার।
ডিপফেক কী?
ডিপফেক এমন ছবি বা ভিডিও, যাতে কাউকে আরেকজনের মতো দেখানো হয়। মজা করার জন্য ব্যবহার করা যায়, আবার ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষের সম্মান নষ্ট করতেও ব্যবহার করা সম্ভব।
ডিপফেকের ঝুঁকি কী?
ডিপফেকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো বিভ্রান্তিকর আর কুৎসিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। কারও নামে অপবাদ দেয়া বা বদনাম করা অনেক সহজ হয়ে যায়, ফলে খুব দ্রুতই কারও পাবলিক ইমেজ নষ্ট হতে পারে।
সেরা ডিপফেক উদাহরণ কোনগুলি?
টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে যান, সার্চ বারে deeptomcruise লিখুন – দেখুন ডিপফেক টেকনোলজি কতটা এগিয়েছে। বিশ্বাস করা কঠিন, এত মানুষ এতটা বাস্তব ফেক ভিডিও বানাতে পারে!
সেরা ডিপফেক সফটওয়্যার কোনটি?
- FaceApp
- Zao (চায়নিজ অ্যাপ)
- Reface
- SpeakPic
- DeepFaceLab
- FakeApp
- Wombo
- Deepfakes Web
কীভাবে ডিপফেক ভিডিও বানাবেন?
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একটা ফ্রি ডিপফেক অ্যাপ ডাউনলোড করে, নিজের ছবি ব্যবহার করে অ্যাপের টেমপ্লেট ভিডিওতে নিজের মুখ বসিয়ে দেয়া।

