আপনি কি কনটেন্ট নির্মাতা? অডিও–ভিডিও বানালে মানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তার মধ্যে ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ কমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাগ্য ভালো, এখন এটা করার বেশ কিছু সহজ উপায় আছে।
শব্দ কমালে অডিওর মান বাড়ে
ভিডিও আর অডিওর মান দর্শকের জন্য ভীষণ জরুরি। বাড়তি ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ থাকলে দেখা–শোনা বিরক্তিকর লাগে। এখন নির্মাতার সংখ্যা এত বেশি যে কেউ পছন্দ না হলে মুহূর্তেই অন্য চ্যানেলে চলে যাবেন। তাই কনটেন্ট উপভোগ্য করতে আর সাবস্ক্রাইবার ধরে রাখতে ভালো মানের ভিডিও দরকার। এর মধ্যে ডায়লগ, মিউজিক, স্ক্রিনে যা থাকে সবই পড়ে। নয়েজ আপনার অন্যতম বড় শত্রু—এটা যতটা সম্ভব কমাতে হবে।
অনলাইন টুল
প্রক্রিয়া সহজ করতে চাইলে অনলাইন টুল ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত এসব টুলের ইন্টারফেস খুবই সহজ, মানও বেশ ভালো। অনেকের ডিজাইন আকর্ষণীয় আর ফিচারও ঢের। অডিও এডিট, ব্যাকগ্রাউন্ডের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কাটছাঁট—সবকিছুর জন্য এগুলো বেশ সহায়ক।
Descript
Descript একটি দারুণ ভিডিও ও অডিও এডিটিং সফটওয়্যার, অনেক কাজে লাগে। কনটেন্ট নির্মাতা হলে এডিটিং অনেক হালকা মনে হবে। একেবারে নতুনরাও ঝামেলা ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। Google Docs-এর মতো সহজ করে ব্যবহার করা—এটাই এর মূল লক্ষ্য। এতে টেক্সট টু স্পিচ অ্যাপও আছে—ভিডিওর ট্রান্সক্রিপশন নিজে নিজে লিখে দেয়। অনর্থক অংশ একসঙ্গে কেটে দিতে পারবেন, এমনকি বদলালে ট্রান্সক্রিপশনে ঠিক করে দিলেই সেই উচ্চারণে আবার রেন্ডার করে নেবে। রেকর্ড করা অডিও নিয়েও আরামসে এডিট করে অপছন্দের অংশ কেটে ফেলতে পারবেন।
Wondershare Filmora
Filmora, Wondershare-এর একটি অ্যাপ, অডিও–ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয়। মূল ফোকাস ভিডিও, তবে চাইলে অডিওও এডিট করতে পারবেন। এর বড় সুবিধা—বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলে, ব্যবহার করা সহজ আর ফ্রি ভার্সনও আছে। ফিচার আর অপশন এত বেশি যে পুরো এডিটিং প্রক্রিয়াই অনেক স্বচ্ছন্দ হয়ে যায়।
কীভাবে কাজ করে
এই অ্যাপগুলো আসলে কীভাবে কাজ করে? ভালো অডিও ফাইল পেতে কী করবেন? এগুলো অনলাইন টুল হওয়ায় আগে ভিডিও থেকে অডিও আলাদা করতে হবে। তারপর সেই ফাইল অনলাইন এডিটরে আপলোড করুন। প্রসেস শেষ হলে এডিটিং শুরু করুন। অনলাইন অডিও এডিটরে ইকিউ নিয়ন্ত্রণ, নয়েজ রিডাকশন, সাউন্ড নরমালাইজেশন—এ ধরনের সব বেসিক সুবিধাই থাকে। প্রায় সব টুলেই নয়েজ কমানোর অপশন থাকে, যাতে সাউন্ড পরিষ্কার করা যায়। চাইলে ডিজিটাল অডিও ওয়ার্কস্টেশন (DAW) বা পেশাদার ভয়েসওভারও ব্যবহার করতে পারেন মান আরো বাড়াতে।
রেকর্ডিং পরিস্থিতি
মনে রাখার মতো বড় বিষয় হলো—রেকর্ডিংয়ের পরিবেশ যত ভালো হবে, পরে এডিটিং তত কম করতে হবে। অডিও মান অনেকভাবে বাড়ানো যায়। অবশ্যই মাইক্রোফোনের মান বড় ফ্যাক্টর, সঙ্গে আপনি কোথায় রেকর্ড করছেন সেটাও। বাইরে ভিডিও রেকর্ড করলে পরিষ্কার অডিও পাওয়া কঠিন। ঘরের ভেতরে হলে নয়েজ কমানো অনেক সহজ। চাইলে রুম সাউন্ডপ্রুফ করতে পারেন, ছোট একটা রেকর্ডিং বুথও বানানো যায়।
Speechify
Speechify সেরা টেক্সট-টু-স্পিচ অ্যাপগুলোর একটি। আইফোন, অ্যান্ড্রয়েডসহ প্রায় সব ডিভাইসে চলে আর ব্যবহারও একদম সহজ। একেবারে নতুন ব্যবহারকারীরও আলাদা টিউটোরিয়াল লাগে না। এই ভয়েস জেনারেটর যে কোনো লেখা মুহূর্তে অডিও বানিয়ে দেয়, চাইলে ফাইল এক্সপোর্ট করতে পারবেন বা সরাসরি ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারবেন। খুব সহজেই ন্যারেশন, অডিওবুক, পডকাস্ট ইত্যাদি বানিয়ে ফেলতে পারবেন AI দিয়ে। আরও আছে—Audible থেকে ফাইল ইম্পোর্ট, বইয়ের পাতা ছবি তুলে তা ভয়েসে রূপান্তর করার সুবিধা। সবচেয়ে বড় কথা, Speechify-এর কণ্ঠ খুবই ন্যাচারাল, প্রায় মানুষের মতো শোনায়। ফলে পেশাদার মানের ভয়েসওভার সহজেই পাবেন, আর যেহেতু এটা AI অডিও—ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজের ঝামেলাই নেই।
প্রশ্নোত্তর
ভয়েস রেকর্ডিংয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ মুছে ফেলা যায় কি?
হ্যাঁ, যায়। Audacity, Filmora, Descript, Adobe Audition, Denoise, Waveform, Izotope RX ইত্যাদি নানা অ্যাপ দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন। প্লাগইন (noise gate) সাপোর্ট আছে কি না দেখে নিন। আপনি যে টুলই ব্যবহার করুন, তাতে যদি নয়েজ কমানোর ইফেক্ট থাকে, কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। তবে রুম টোনও খুব গুরুত্বপূর্ণ—এসি চললে বা মাইক্রোফোন বেশি সেনসিটিভ হলে সব শব্দই ধরা পড়ে।
ভয়েস ওভারে ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ কীভাবে কমাবেন?
প্রোগ্রামভেদে ধাপ আলাদা হতে পারে, তবে সাধারণত ‘noise reduction’ বা ‘noise removal’ অপশন এফেক্ট মেনুতে পাবেন। সিলেক্ট করলে আরও কিছু সেটিংস আসবে, সেখান থেকে অপ্রয়োজনীয় নয়েজ কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাউন্ড রেখে দিতে পারবেন।
স্টুডিওতে কোনো শব্দছাড়া রেকর্ড করবেন কিভাবে?
স্টুডিওতে সাধারণত রেকর্ডিং স্পেস সাউন্ডপ্রুফ করে রাখা হয়। এরপর দরকার ভালো মাইক্রোফোন, এডিটিং সফটওয়্যার আর কিছু অতিরিক্ত গিয়ার, যেগুলো রেকর্ডিংয়ের পর অডিওর মান আরও ঝকঝকে করে তোলে।

