আপনি কি ভালো একটা বই নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে ভালোবাসেন? নতুন উপন্যাস দোকানে এলেই পড়ে শেষ করেন?
ঘন্টার পর ঘন্টা বইয়ে ডুবে থাকা দারুন, কিন্তু যদি সেই প্রিয় বইয়ের মাঝেই সময় কাটিয়ে টাকাও উপার্জন করতে পারেন?
এমন অনেক পেশা আছে যেখানে পড়ার নেশা ধরে রেখেই কেরিয়ার গড়া যায়। আপনি নতুন কিছু শিখতে পছন্দ করুন বা রোমান্সের জগতে হারিয়ে যেতে ভালোবাসুন, এই চাকরিগুলোর যেকোনোটি আপনার জন্য পারফেক্ট হতে পারে।
১. লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ
যারা পড়তে ভালোবাসেন তাদের জন্য লাইব্রেরিয়ান হওয়া দারুন একটা কাজ। এখানে বই সামলানো, নতুন বই আনা-নেওয়া, পুরোনো বই বাদ দেওয়া—সবকিছুই আপনাকেই দেখতে হয়।
দিনে খুব বেশি বসে পড়তে নাও হতে পারে, তবে ফাঁকে ফাঁকে বা নতুন বই যাচাই করতে গিয়েই পড়া হয়ে যায়। তবে অনেক পড়লে চোখ ক্লান্ত বা ব্যথা হতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় কাজ করলে। বেশিরভাগ লাইব্রেরিয়ানই দিনে ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করেন।
২. কপি এডিটর হওয়া
নতুন বই-পত্রিকা নিয়ে পড়ে থাকতে ভালোবাসলে কপি এডিটর হওয়া আপনার জন্য জমজমাট পেশা। পড়তে ভালোবাসার কারণেই কপি এডিটররা সাধারণত পাঠকের মনের কথা ভালো ধরতে পারেন।
কপি এডিটরদের খুঁটিনাটি ধরে দেখতে হয়, দিনে কয়েক হাজার শব্দ পড়তে হলেও (গড়ে $4,000 প্রতি ঘণ্টা) ব্যাকরণ আর বাক্য গঠনে মনোযোগী থাকা জরুরি।
৩. ইংরেজি শিক্ষক হওয়া
ইংরেজি শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে প্রচুর পড়াশোনা করেন। তারা ব্যাকরণ, রচনা, কবিতা, নানান ধরনের লেখা পড়ান। অনেক শিক্ষকই ৮–১০ ঘণ্টা কাজ করেন এবং বাড়িতে গিয়েও এসাইনমেন্ট দেখে মন্তব্য লিখে দেন।
৪. বই রিভিউয়ার হওয়া
বই রিভিউয়ারদের মূল কাজই পড়া। দিনে আট ঘণ্টা পড়েও সব বই শেষ নাও হতে পারে। আপনার নিজের মতামত খোলামেলাভাবে লিখতে হবে, যাতে অন্যরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে বইটা পড়ার মতো কি না।
৫. অনুবাদক হিসেবে কাজ
অনুবাদকদের অন্তত দুই ভাষায় সাবলীলভাবে পড়তে হয়, যা চোখ আর মস্তিষ্ক—দু’দিক থেকেই বেশ ক্লান্তিকর। উভয় ভাষার ব্যাকরণও খুব পরিষ্কার জানা থাকতে হবে। এ পেশায় সাধারণত আনুষ্ঠানিক শিক্ষাও দরকার হয়।
৬. বুকস্টোরে কাজ
শান্ত পরিবেশে কাজ করতে চাইলে আর সুযোগ পেলেই পছন্দের বইয়ে ডুবে যেতে চাইলে বুকস্টোরে কাজ করতে পারেন। কি কি বই আসছে, কাস্টমারদের বই বাছাইয়ে সাহায্য করা আর বুক টাইটেল নিয়ে কাজ করাই হবে মূল দায়িত্ব, তবে আপনার চোখ কিন্তু সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকবে।
৭. পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট হওয়া
পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্টদের রাজনৈতিক ইতিহাস ঠিকমতো বুঝতে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়; আর্টিকেল, রিপোর্ট, বই—সবই পড়া লাগে, যা এই পেশার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বেশিরভাগ পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্টের মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রি থাকে, কারণ এ পেশায় সত্যিই অনেক পড়াশোনা করতে হয়।
৮. আর্কাইভিস্ট হওয়া
যদি পুরনো বই-ডকুমেন্ট ঘেঁটে দেখতে ভালোবাসেন, আর্কাইভিস্ট হওয়া আপনার জন্য একদম মানানসই। এটা ইতিহাসবিদদের জন্যও চমৎকার একটা ফিল্ড।
ডকুমেন্ট যাচাই, সংরক্ষণ, আর্কাইভে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা—এসব কাজ করতে গিয়েই কয়েক ঘণ্টা পড়া লেগে যেতে পারে। তবে সব কাজ সরাসরি পড়া-সম্পর্কিত নয়।
৯. অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ
অ্যাটর্নিরা সবসময় অফিসে বসে থাকেন না, তবে যখন থাকেন তখন মূলত আইনের লেখা পড়তেই হয়। কেস স্টাডি, আইন পরিবর্তন আর কোর্টের প্রস্তুতিমূলক কাজেই তাদের অধিকাংশ সময় চলে যায়।
১০. শ্রমিক অধিকার বিশেষজ্ঞ হওয়া
শ্রমিক অধিকার বিশেষজ্ঞকে ছোটখাটো বিষয়েও খুব মনোযোগী হতে হয়। আপনাকে চুক্তিপত্র, অভিযোগ ইত্যাদি পড়তে হবে—দীর্ঘ শিফটজুড়ে বই বা কম্পিউটারের সামনে বসেই সময় কেটে যায়।
১১. এপিডেমিওলজিস্ট হওয়া
এপিডেমিওলজিস্টরা শুধু পড়েই কাজ সারেন না, তবে গবেষণা করতে গিয়ে নানা রিপোর্ট আর মেডিকেল জার্নাল পড়তে হয়। পুরো শিফটজুড়ে না পড়লেও, তথ্য আপডেট রাখতে নিয়মিতই পড়া লাগে।
এসব পেশায় TTS কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
এসব পেশায় চোখে বেশ চাপ পড়ে, তাই ক্লান্তি আর চোখের সমস্যার ঝুঁকি থাকে, কিন্তু কাজ থামিয়ে রাখারও উপায় নেই।
প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ার চাপ নেওয়াও ঠিক না; ক্লান্তি বাড়লে মনোযোগ আর কাজ—দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
টেক্সট-টু-স্পিচ দারুন উপকারি, কারণ এটি আপনাকে পড়ে শোনায়। একই লেখা বারবার চোখ দিয়ে পড়ার বদলে TTS-এ শুনে নিতে পারেন।
TTS যেভাবে সাহায্য করতে পারে:
- নতুন বই রিভিউ করতে হবে, কিন্তু চোখ ভীষণ ক্লান্ত? TTS চালান—শুয়ে বসে গল্পটা শুনুন।
- ডকুমেন্ট অনুবাদ করছেন—বারবার এদিক ওদিকে তাকাতে হচ্ছে? TTS চালান, এক ভাষায় শুনুন আর মনোযোগ দিয়ে অন্য ভাষায় টাইপ করুন।
- ক্যারিয়ার বদলেছেন, এত দীর্ঘ সময় পড়তে হবে জানতেন না? চোখ ক্লান্ত লাগলেই TTS চালিয়ে একটু বিশ্রাম নিন—তবুও কাজ ঠিকই এগোবে।
Speechify সম্পর্কে জানুন
Speechify-এর সাথে পড়া হবে আরামদায়ক—ঝক্কি নয়। অফিসে বা পথে, আর্টিকেল, PDF আর আরও অনেক কিছু কান পেতে শুনুন।
আপনি প্রায় যেকোনো বই শুনতে পারেন—পৃষ্ঠার ছবি তুলুন আর বাকিটা ওকেই পড়ে শোনাতে দিন। এখানে স্বাভাবিক কণ্ঠে শোনা ও বোঝা বেশ সহজ।
TTS আপনাকে আর কীভাবে সাহায্য করতে পারে জানতে চান? Speechify ফ্রি ট্রাই করুন.

