ভিডিও ফাইল ফরম্যাটের দুনিয়ায় পথ খুঁজে পাওয়া অনেক সময় ঝামেলার হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন এগুলো বিভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী এডিট ও মানিয়ে নিতে হয়। AVI, বা অডিও ভিডিও ইন্টারলিভ, মাইক্রোসফটের পুরোনো কিন্তু প্রচলিত এক ফরম্যাট, যা নানা ধরনের মাল্টিমিডিয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। এখানে আমরা AVI ফাইল আর এদের ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত বলেছি—মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন থেকে ভিডিও এডিটিং ও সংরক্ষণ পর্যন্ত। সঙ্গে পাবেন Speechify Video Studio দিয়ে অনলাইনে AVI ফাইল ট্রিম, ক্লিপ ও ক্রপ করার ধাপে ধাপে টিউটোরিয়াল। সহজ এই টুলটি নতুন ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ সকলেরই কাজে লাগবে।
আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ভিডিও বানান, নাকি শুধু শেয়ার ও সংরক্ষণের জন্য ভিডিও গুছিয়ে রাখেন—আমাদের গাইড আপনাকে ঠিক যতটুকু স্কিল দরকার, তা দিয়েই দেবে।
AVI ফাইল কী?
AVI মানে অডিও ভিডিও ইন্টারলিভ। ১৯৯২ সালে মাইক্রোসফট এটি Video for Windows সফটওয়্যারের অংশ হিসেবে চালু করে। AVI ফাইলে অডিও ও ভিডিও ডেটা একসঙ্গে থাকে, যাতে সিঙ্ক করা অবস্থায় অডিও-ভিডিও প্লে হয়।
এই ফরম্যাটে MPEG বা MOV-এর তুলনায় কম কমপ্রেশন থাকে, তাই ফাইল সাইজ বড় হয়, কিন্তু ছবির মান সাধারণত বেশি ভালো থাকে। AVI চালাতে প্লেয়ারের নির্দিষ্ট কোডেক সাপোর্ট করা জরুরি।
এক সময় AVI খুব জনপ্রিয় ছিল, তবে এখন তুলনায় কিছুটা কম ব্যবহার হয়, কারণ আধুনিক ফরম্যাটে বেশি ফিচার আর ভালো কমপ্রেশন পাওয়া যায়। তবু নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য এখনো এটি বেশ প্রচলিত; তাই AVI সম্পর্কে ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
AVI ভিডিও কী কাজে লাগে?
AVI (Audio Video Interleave) হলো অডিও ও ভিডিও ডিজিটালি রাখার জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের ফাইল ফরম্যাট। এটি মাইক্রোসফট তৈরি করেছে এবং অনেক প্লেয়ার ও সফটওয়্যারে সহজেই চলে। এর কয়েকটি সাধারণ ব্যবহার:
- মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন: পেশাদার ভিডিও, প্রেজেন্টেশন বা বিজ্ঞাপনে ভালো মানের কারণে AVI ব্যবহার করা হয়।
- ভিডিও এডিটিং: কম কমপ্রেশনের কারণে মান কমে যায় না, ফলে এডিটিংয়ের সময় কাজ করা সহজ হয়।
- ডেটা শেয়ারিং: সাইজ বড় হলেও সুশৃঙ্খল প্লেব্যাকের জন্য অনেকেই AVI পছন্দ করেন।
- ব্রডকাস্টিং: উচ্চ মান ও বিভিন্ন ডিভাইস/সফটওয়্যারের সাথে সামঞ্জস্য থাকায় সম্প্রচারে ব্যবহার করা হয়।
- আর্কাইভিং: কম কমপ্রেশন থাকায় আসল গুণগত মান অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে, ফলে আর্কাইভে রাখার জন্য উপযোগী।
তবে, ওয়েবে AVI কম দেখা যায়, কারণ এতে কিছু দরকারি সুবিধা নেই—যেমন ডাউনলোড শেষ হওয়ার আগেই ভিডিও চালানো যায় না। তাই অনলাইনে MP4, WebM-এর মতো ফরম্যাটই বেশি ব্যবহার হয়।
কিভাবে অনলাইনে AVI ফাইল ট্রিম, ক্লিপ, ক্রপ করবেন
Speechify Video Studio-র ভিডিও এডিটর দিয়ে সহজ ড্র্যাগ-ড্রপেই AVI ফাইল কাটতে, ক্রপ ও ক্লিপ করতে পারবেন। নতুন হোন বা পুরোনো ব্যবহারকারী—সবার পক্ষেই এটি ব্যবহার করা সহজ, আর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী Instagram, Facebook, YouTube, Twitter ইত্যাদির জন্য আলাদা অ্যাসপেক্ট রেশিওও সেট করা যায়।
Speechify Video Studio-তে AVI ফাইল এডিট করতে বাড়তি কিছু ডাউনলোডের দরকার নেই; সরাসরি ব্রাউজার থেকেই কাজ সেরে ফেলতে পারবেন।
অনলাইনে AVI ভিডিও ক্রপ করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ধাপ ১: AVI ফাইল ইম্পোর্ট করুন
Speechify Video Studio-তে AVI ফাইল আনার জন্য Choose AVI File-এ ক্লিক করুন, বা সরাসরি ড্র্যাগ-ড্রপ করে আপনার লাইব্রেরি থেকে ফাইল যোগ করুন।
ধাপ ২: ভিডিও ট্রিম ও সাইজ ঠিক করুন
আপনি যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করবেন, সেই প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী আপনার ভিডিওর অ্যাসপেক্ট রেশিও বেছে নিন। Speechify-এর সেটিংসে দিলে AVI ভিডিও নিজে থেকেই সেই অনুপাত অনুযায়ী ক্রপ হয়ে যাবে। Project Settings-এ Instagram, Twitter, Facebook Landscape, Portrait ইত্যাদির অপশন আছে। চাইলে ভিডিওর কোণা ধরে ড্র্যাগ করে ম্যানুয়ালিভাবেও সাইজ ঠিক করতে পারবেন—শুধু যেই অংশ রাখতে চান, সেটুকুই টেনে নিন।
ধাপ ৩: সম্পাদিত ভিডিও এক্সপোর্ট করুন
সবকিছু শেষ হলে Export বাটনে ক্লিক করে ভিডিও শেয়ার করার জন্য প্রস্তুত করুন। Speechify Video Studio AVI, MOV, MKV, WMV, FLV–সহ আরও বেশ কিছু ফরম্যাট সাপোর্ট করে।
Speechify Video Studio-তে AVI ফাইল এডিট ও ভিডিও ক্রপ করুন
শুধু ভিডিও ক্রপার নয়, Speechify Video Studio-তে পাবেন আরও অনেক ফিচার: সাবটাইটেল যোগ, ওয়াটারমার্ক বসানো, ট্রানজিশন, অংশ কেটে জোড়া লাগানো ইত্যাদি। এসব দিয়ে সহজেই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য চোখে পড়ার মতো ভিডিও স্টোরি বানাতে পারবেন। উইন্ডোজ আর ম্যাক—দুই ধরনের অপারেটিং সিস্টেমেই চলে, আর Google Drive বা Dropbox থেকেও সরাসরি ভিডিও ইম্পোর্ট করা যায়।
Speechify Video Studio থেকে এক্সপোর্ট করলে আপনার ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে MP4-এ কনভার্ট হয়, ফলে VLC সহ প্রায় সব প্লেয়ারেই চলে। কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করার ঝামেলা নেই। চাইলে AVI ভিডিওর সাইজ কমাতে কমপ্রেশন সেটিংসও ব্যবহার করতে পারবেন, যাতে ইমেইলে বা অনলাইনে সহজে পাঠানো যায়।
আপনি একেবারে নতুন হোন বা পেশাদার, অনলাইনে ভিডিও এডিট করার জন্য Speechify Video Studio-ই এক দারুণ টুল—হোক তা Instagram স্টোরি কিংবা Vimeo-তে দেয়া ছোট ক্লিপ। এক প্ল্যাটফর্মেই পেয়ে যান সম্পূর্ণ সলিউশন।
আজই Speechify Video Studio ব্যবহার করে দেখে নিন।
প্রশ্নোত্তর
পিসি/ম্যাকে ভিডিও ফ্রেম কিভাবে ক্রপ করবেন?
এডিটরে ভিডিও ফাইল আপলোড করুন। ফ্রেমের চার কোনায় ক্লিকযোগ্য ডট দেখবেন, সেগুলো ড্র্যাগ করে সাইজ ও আকৃতি ঠিক করুন, অথবা Settings থেকে পছন্দের রেশিও বেছে নিন।
iPhone-এ ভিডিও ক্রপ করা যায়?
Speechify Video Studio-র এডিটর iPhone, Android সহ সব ধরনের মোবাইল ডিভাইসে চলে; আলাদা অ্যাপ লাগবে না, মোবাইল ব্রাউজারেই সব ভিডিও এডিটিং টুল পেয়ে যাবেন।
কিভাবে ভিডিও কেটে ও একত্রিত করবেন?
Speechify Video Studio-তে খুব সহজেই ভিডিও কাটতে ও জোড়া লাগাতে পারবেন। টাইমলাইনে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ক্লিক করে অংশ ভাগ করুন, তারপর যেগুলো দরকার নেই সেগুলো রিমুভ বা রিঅ্যারেঞ্জ করুন। নতুন ক্লিপ যোগ করতে প্লাস আইকনে ক্লিক করে অন্য ভিডিও আনুন—এক্সপোর্ট করলে সব অংশ মিলিয়ে একটিই ফাইল হবে।
AVI ফাইল MP4-এ কনভার্ট করা যায়?
হ্যাঁ, Speechify Video Studio-তে এডিট করা AVI ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে MP4 ফরম্যাটে এক্সপোর্ট হয়, ফলে প্রায় সব ডিভাইসে অনায়াসে চালাতে পারবেন।

