প্রায় ৬ মিলিয়ন আমেরিকান ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত । এটি ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ রূপ, তবে এটি বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রতি পাঁচ বছরে আলঝেইমার আক্রান্তদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়।
২০৫০ সালে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই আলঝেইমার রোগীর সংখ্যা ১৩ মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতি বছর আলঝেইমার ও অন্যান্য ডিমেনশিয়ায় প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের চেয়েও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মারা যান। আসলে, ৩ জন সিনিয়রের ১ জন মারা যান আলঝেইমার বা অন্য ডিমেনশিয়াতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলঝেইমারে আক্রান্তদের দুই-তৃতীয়াংশই নারী।
আলঝেইমার কী?
আলঝেইমার এক ধরনের ডিমেনশিয়া, সবচেয়ে সাধারণ ধরন, যা ডিমেনশিয়া রোগের ৮০% পর্যন্ত বোঝায়। এটি বুদ্ধি ও স্মৃতির মারাত্মক ক্ষতি ঘটায়। এটি একটি ক্রমবর্ধমান রোগ, যা সময়ের সাথে সাথে আরও খারাপের দিকে যায়।
আলঝেইমারের প্রাথমিক পর্যায়ে হালকা স্মৃতি বিভ্রাট থাকে, এরপর পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে কথা বলা, সাধারণ দৈনন্দিন কাজ, এমনকি পরিবেশের প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও কমে যায়। শেষ পর্যায়ে, নিজের যত্ন নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
আলঝেইমার দ্রুত শনাক্ত করলে কী উপকার?
আলঝেইমার আগে শনাক্ত করতে পারলে রোগের গতি ধীর করা বা কিছুটা থামানো সম্ভব। এটা শুরু হয় হালকা মানসিক দুর্বলতা (MCI) থেকে, যা শুরুতে চিন্তার কারণ হতে পারে। দুঃখজনকভাবে, প্রতি ৫ জনে মাত্র ১ জন MCI সম্পর্কে জানেন এবং অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে উড়িয়ে দেন। আলঝেইমারজনিত MCI রোগীদের এক-তৃতীয়াংশ পাঁচ বছরের মধ্যে ডিমেনশিয়ায় রূপ নেয়।
আলঝেইমার প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?
আলঝেইমার প্রতিরোধের নানা উপায় রয়েছে। যেমন, কার্ডিওভাসকুলার রোগ আলঝেইমার ও ভাসকুলার ডিমেনশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। হৃদরোগে আলঝেইমারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই হৃদযত্ন নিন।
তাজা, প্রাকৃতিক খাবার আর নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুরু করুন। আরো যা করতে পারেন:
- ধূমপান ছেড়ে দিন
- মদ্যপান কমান বা পুরোই বাদ দিন
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন
আপনি আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে পারেন সামাজিক ও মানসিকভাবে সক্রিয় থেকে। কিছু কার্যকর কাজ, যা নিয়মিত করতে পারেন:
- পড়া
- বাদ্যযন্ত্র বাজানো
- গ্রুপ খেলা বা যেকোনো গ্রুপ অ্যাক্টিভিটিতে অংশগ্রহণ
- ভিন্ন ভাষা শেখা
- কমিউনিটিতে স্বেচ্ছাসেবকতা
- নতুন শখ বা কাজ নিয়ে চেষ্টা করা
- ক্রসওয়ার্ড ও লজিকাল পাজল সমাধান
- জিগস পাজল সমাধান করুন
- সক্রিয় সামাজিক জীবন বজায় রাখুন
আলঝেইমার প্রতিরোধে পড়ার বড় ভূমিকা
পড়া হল সবচেয়ে কার্যকর ব্রেইন স্টিমুলেশন, যা আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পড়া মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে ও স্মৃতি ধরে রাখতে সহায়তা করে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা বেশি মানসিকভাবে সক্রিয় থাকেন তাঁদের মানসিক সক্ষমতা মাত্র ৩২% কমে, আর খুব কম যারা মানসিক উদ্দীপনামূলক কাজ করেন তাঁদের সক্ষমতা ৪৮% হারে দ্রুত কমে।
পড়া মস্তিষ্ক রক্ষা করলেও এটা সবার জন্য সবসময় সহজ নাও হতে পারে। বয়স্কদের বই বা ডিভাইস ধরে রাখা কষ্টকর হতে পারে, অথবা দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে পড়া কঠিন হয়ে যায়। ফলে তাঁরা পড়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন। তবে এর সমাধান আছে।
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে টেক্সট-টু-স্পিচ
টেক্সট-টু-স্পিচ (TTS) ব্যবহারকারীদের জন্য ডকুমেন্ট, আর্টিকেল ইত্যাদি শোনার সুযোগ করে দেয়। এতে পড়ার সময় বই হাতে ধরার ঝামেলা ছাড়াই ব্রেইন স্টিমুলেশন সম্ভব হয়।
Speechify-এর TTS প্রোগ্রামে আপনি আরও ভালো ও দ্রুত পড়তে পারেন, পড়া অনেক বেশি মনে থাকে, আর স্মৃতিশক্তিও বাড়ে। এতে একসাথে শোনা ও পড়া, এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা বাড়ানো সম্ভব। নিজে পড়ুন বা শুধু শুনুন—স্পিড আপনি নিজেই ঠিক করতে পারবেন।
এতে পড়া আরও ভালোভাবে বোঝা ও মনে রাখা যায়, যা মস্তিষ্কের জন্য দারুণ ব্যায়াম। প্রোগ্রামটি সহজ ও নমনীয়—বই ছাড়াও ইমেইল, মেসেজ, গুরুত্বপূর্ণ নথিও শুনে নিতে পারবেন। দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হলে Speechify আপনাকে স্বাধীনতা দেয়—যা চান, যখন ও যেভাবে চান সেভাবেই পড়তে পারবেন।
পড়ার উপকার পেতে Speechify ব্যবহার করে দেখুন। পড়ার উপকারিতা জানতে আর ফ্রি ট্রায়াল নিতে আমাদের সাইটে যান। মন ভরে পড়ুন।
প্রশ্নোত্তর
ডিমেনশিয়া রোধে পড়া কি উপকারী?
২০১৮ সালের জুলাইয়ে JAMA Psychiatry-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায়, প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। হংকং-এর Elderly Health Centres ১৫,০০০ জনকে নিয়ে টানা পাঁচ বছর গবেষণা চালায়। যাঁদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাস ছিল, তাঁদের মধ্যে আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝোঁক তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।
পড়া কি স্মৃতিক্ষয় রোধে সহায়ক?
গবেষণায় দেখা যায়—পড়া শুধু স্মৃতিক্ষয় প্রতিরোধে নয়, স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও কাজে দেয়। পড়া হল মানসিক উদ্দীপনামূলক কাজ, অর্থাৎ “মস্তিষ্ক ব্যায়াম”। এটা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, ফলে নতুন নিউরন তৈরি করে স্মৃতিসহ বিভিন্ন মানসিক দক্ষতা উন্নত করে।
তাছাড়া স্ট্রেস ও মনোযোগের ঘাটতিও স্মৃতিতে প্রভাব ফেলে। পড়া স্ট্রেস কমায় ও মনোযোগ বাড়ায়। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মানসিক পতন ধীর করতে পড়া বেশ সহায়ক।
স্বাভাবিকভাবে আলঝেইমার প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আর নিয়মিত ব্যায়ামই আপনার সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপায়। আলঝেইমার ও হৃদরোগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। যারা হৃদরোগে ভুগছেন, তাঁদের মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।
সম্পূর্ণ, কম প্রক্রিয়াজাত খাবার আর নিয়মিত/মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম শুধু হৃদরোগ নয়, আলঝেইমার রোধেও সহায়ক। প্রতিবার ৩০ মিনিট করে, সপ্তাহে ৩–৪ দিন যথেষ্ট।
{"@context":"https://schema.org","@type":"FAQPage","mainEntity":[{"@type":"Question","name":"ডিমেনশিয়া রোধে পড়া কি উপকারী?","acceptedAnswer":{"@type":"Answer","text":"২০১৮ সালের জুলাইয়ে JAMA Psychiatry-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায়, প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। হংকং-এর Elderly Health Centres ১৫,০০০ জনকে নিয়ে টানা পাঁচ বছর গবেষণা চালায়। যাঁদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাস ছিল, তাঁদের মধ্যে আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝোঁক তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।"}},{"@type":"Question","name":"পড়া কি স্মৃতিক্ষয় রোধে সহায়ক?","acceptedAnswer":{"@type":"Answer","text":"গবেষণায় দেখা যায়—পড়া শুধু স্মৃতিক্ষয় প্রতিরোধে নয়, স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও কাজে দেয়। পড়া হল মানসিক উদ্দীপনামূলক কাজ, অর্থাৎ “মস্তিষ্ক ব্যায়াম”। এটা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, ফলে নতুন নিউরন তৈরি করে স্মৃতিসহ বিভিন্ন মানসিক দক্ষতা উন্নত করে।nnতাছাড়া স্ট্রেস ও মনোযোগের ঘাটতিও স্মৃতিতে প্রভাব ফেলে। পড়া স্ট্রেস কমায় ও মনোযোগ বাড়ায়। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মানসিক পতন ধীর করতে পড়া বেশ সহায়ক।"}},{"@type":"Question","name":"স্বাভাবিকভাবে আলঝেইমার প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?","acceptedAnswer":{"@type":"Answer","text":"স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আর নিয়মিত ব্যায়ামই আপনার সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপায়। আলঝেইমার ও হৃদরোগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। যারা হৃদরোগে ভুগছেন, তাঁদের মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।nnসম্পূর্ণ, কম প্রক্রিয়াজাত খাবার আর নিয়মিত/মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম শুধু হৃদরোগ নয়, আলঝেইমার রোধেও সহায়ক। প্রতিবার ৩০ মিনিট করে, সপ্তাহে ৩–৪ দিন যথেষ্ট।"}}]}

