আজকের ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি নানাভাবে মানুষের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দারুণ অগ্রগতি করেছে। এর মধ্যে Speechify, একটি টেক্সট-টু-স্পিচ সফটওয়্যার, যা লেখার বিষয়বস্তু ব্যবহারের ধরণটাই বদলে দিয়েছে। এই লেখায় Speechify-এর ইতিহাস, লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠাতা, ফান্ডিং এবং এই উদ্ভাবনের সাথে কীভাবে যুক্ত থাকা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
Speechify কী?
Speechify হলো শক্তিশালী একটি টেক্সট-টু-স্পিচ অ্যাপ, মূলত ডিসলেক্সিয়াসহ শেখার সমস্যায় ভুগছেন এমনদের লেখা পড়ার বিষয়বস্তু সহজে শোনার সুযোগ দিতে বানানো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লিখিত টেক্সটকে কথায় রূপান্তর করে Speechify, ফলে ব্যবহারকারীরা আর্টিকেল, বই, ডকুমেন্ট ও ওয়েবসাইট শুনে নিতে পারেন। উচ্চমানের কণ্ঠ এবং পছন্দমত ভয়েস সেটিং অনন্য অভিজ্ঞতা দেয় ও ব্যবহার আরও সহজ করে।
Speechify-এর ব্যবহার অনেক রকম, যা ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনে কাজে লাগে। নিচে কয়েকটি সাধারণ ব্যবহার দেখুন:
- শেখার নানা চ্যালেঞ্জের জন্য অ্যাকসেসিবিলিটি: Speechify প্রথমে ডিসলেক্সিয়ার মত শেখার সমস্যায় সাহায্য করার জন্য তৈরি, যাতে লেখা সহজে শোনা যায়। এতে উইকিপিডিয়া, গুগল ডক্সের মত শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটও হাতের মুঠোয় চলে আসে।
- বিনোদন ও অবসর: Speechify দিয়ে যেকোনো লেখা অডিওবুকের মত শোনা যায়, ফলে অবসর কাটানো বা পছন্দের গল্প, ব্লগ বা ফ্যান ফিকশন উপভোগ করা আরও সহজ হয়।
- প্রোডাক্টিভিটি ও কার্যকারিতা: ব্যস্ত পেশাজীবী বা যে কেউ ডকুমেন্ট, ইমেল, বা রিপোর্ট যেকোনো জায়গা থেকে শুনে সময় বাঁচাতে Speechify ব্যবহার করতে পারেন। পডকাস্টের মতই একসাথে অনেক কাজ করা সম্ভব হয়।
Speechify-এর ইতিহাস
Speechify আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৭ সালে ক্লিফ ও টাইলার ওয়িট্জম্যান প্রতিষ্ঠা করেন, যাঁরা নিজেরাই ডিসলেক্সিয়া-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ক্লিফ তাঁর শিক্ষা জীবনে ডিসলেক্সিয়ার কারণে পড়তে ও বুঝতে সমস্যায় পড়তেন, যা নিয়মিতই তাঁর পড়াশোনায় বাধা হয়ে দাঁড়াত।
হ্যারি পটার অডিওবুক শোনার পর, তিনি এমন একটি টেক্সট-টু-স্পিচ সফটওয়্যার বানানোর কথা ভাবেন, যা তাঁর মত সমস্যায় থাকা মানুষদের উপকারে আসবে। ব্যক্তিগত আইফোনে হাতে-কলমে কয়েকটি ভার্সন বানাতেই গড়ে ওঠে আজকের Speechify টেক্সট-টু-স্পিচ প্রযুক্তি।
২০১৭ সালে ক্লিফ ওয়িট্সম্যান Forbes 30 under 30 তালিকায় জায়গা পান, ইন্টারনেটকে আরও সহজলভ্য করার জন্য তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
Speechify-এর প্রতিষ্ঠাতারা
Speechify-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্লিফ ও টাইলার ওয়িট্জম্যান। ডিসলেক্সিয়ার চ্যালেঞ্জ নিজে অনুভব করায় ক্লিফ Speechify বানান, আর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ভাই টাইলার তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়ে প্ল্যাটফর্মটি বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
Speechify-এর ফান্ডিং
Speechify Inc. ২০১৭ ও ২০২০ সালে দুই দফা সিড ফান্ডিং পেয়েছে। মোট পরিমাণ প্রকাশ না হলেও, নিউ ইয়র্কভিত্তিক G9 Ventures, Adjacent Venture Capital ও Streamlined Ventures থেকে বিনিয়োগ পেয়েছে।
Speechify-এর লক্ষ্য
Speechify-এর লক্ষ্য হলো শেখার সমস্যায় ভুগছেন এমনদের শক্তিশালী টুল দিয়ে সহায়তা করা, যাতে লেখা সহজে কথায় রূপান্তরিত হয়। এআই ও টেক্সট-টু-স্পিচ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তথ্য আরও সহজে শেখা ও বোঝার সুযোগ করে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
Speechify-কে কীভাবে সাহায্য করব?
Speechify-এর লক্ষ্যকে সমর্থন করেন এবং এই উদ্ভাবনে পাশে থাকতে চাইলে কয়েকভাবে সাহায্য করতে পারেন। প্রথমত, Speechify অ্যাপটি iOS এর জন্য App Store বা Android-এর জন্য Google Play Store থেকে ডাউনলোড করুন। পিসিতে ব্যবহারের জন্য Chrome Extension-ও নামাতে পারেন। অ্যাপ ব্যবহার করে ভালো অভিজ্ঞতা হলে তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করলে প্রযুক্তিটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। Speechify সম্পর্কে আরও জানতে speechify.com ওয়েবসাইটে যান, নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন, এবং LinkedIn সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের অনুসরণ করুন।
Speechify-এর উত্থান
২০১৫ সাল থেকে, এই স্টার্টআপ ডিসলেক্সিয়াসহ শেখার সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য গেম-চেঞ্জার টেক্সট-টু-স্পিচ সফটওয়্যার হিসেবে উঠে এসেছে। ক্লিফ ওয়িট্জম্যানের উদ্যোগে Speechify গুণমান ও প্রভাবের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। তথ্য সবার জন্য সহজলভ্য করতে Speechify আমাদের শেখার ধরন বদলে দিচ্ছে। ডাউনলোড, ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ও প্রচারের মাধ্যমে সবাই মিলে শেখার বাধা technological সহায়তায় কমাতে সাহায্য করতে পারি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
Speechify কে তৈরি করেছেন?
Speechify-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্লিফ ওয়িট্জম্যান ও টাইলার ওয়িট্জম্যান।
Speechify-তে চাকরি কীভাবে পাব?
Speechify-তে চাকরির সুযোগ জানতে তাদের ওয়েবসাইটের ক্যারিয়ার পেজ বা linkedin.com-এ প্রোফাইল দেখে নিতে পারেন। সুযোগ মেললে নির্ধারিত চ্যানেলেই আবেদন পাঠান।
Speechify কি ফ্রি?
Speechify-তে ফ্রি ও পেইড সাবস্ক্রিপশন আছে। ফ্রি ভার্সনে থাকে সাধারণ ফিচার, আর প্রিমিয়ামে আনলক হয় আরও অনেক ফিচার ও সুবিধা।

