নিউ ইয়র্ক টাইমসে টেক্সট-টু-স্পিচ: চলতে চলতে খবর শোনার সুবিধা
নিউ ইয়র্ক টাইমস শুধু নিউ ইয়র্ক নয়, সারা দুনিয়ারই এক ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় সংবাদপত্র। মনে হতে পারে, এই পত্রিকাটি কি শোনা যায়? যায়, অবশ্যই যায়! তবে তার আগে কয়েকটা কৌশল জানা দরকার।
অডিও আর্টিকেলের ধারণা ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের অবদান
বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে আগে সংক্ষেপে দেখে নিই, অডিও আর্টিকেল আসলে কী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অডিও জার্নালিজম দারুণ বেড়েছে; অনেকেই তথ্য পাওয়ার সহজ উপায় হিসেবে অডিও কনটেন্টকেই বেছে নিচ্ছেন। 'দ্য ডেইলি'র মতো পডকাস্ট আর অডিও বই এই ধারাকে আরও জনপ্রিয় করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস অডিও এই পরিবর্তনের সামনের সারিতেই আছে—শ্রোতাদের জন্য সাজিয়ে দিচ্ছে নানা ধরনের কনটেন্ট। অডিও আর্টিকেল মানে লেখা আর্টিকেলের শোনা যায় এমন সংস্করণ; লেখার গভীরতা ঠিকই থাকে, সঙ্গে যোগ হয় অডিও শোনার সুবিধা। পছন্দের খবর, ফিচার বা মতামত যেকোনো কাজের ফাঁকে কানে শুনে নেওয়া যায়। NY Times অডিও বা NYTimes অডিও অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েডে এসব সুবিধা হাতের কাছেই এনে দেয়।
অডিও সাংবাদিকতার উত্থান
অডিও সাংবাদিকতা, যেমন নিউ ইয়র্ক টাইমস অডিও, এত জনপ্রিয় হলো কেন? বড় কারণ এর সহজলভ্যতা আর ব্যবহার-সুবিধা। ব্যস্ত জীবনে সবাইই কাজ আর যাতায়াতের ভিড়ের মধ্যে থাকে। NYTimes অডিও অ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো যেকোনো সময় খবর শোনার সুযোগ দেয়—বাসে, হাঁটতে হাঁটতে বা বাড়িতে আরাম করে বসেও শোনা যায়। ভিজ্যুয়ালি চ্যালেঞ্জড ব্যক্তিদের জন্যও অডিও আর্টিকেল খবর জানাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। এইভাবে প্রায় সবাই তথ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে। প্রযুক্তি যেমন তথ্যের দেয়াল ভেঙে দিচ্ছে, অডিও জার্নালিজমও খবরকে সত্যিকার অর্থেই সবার নাগালে এনে দিচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস অডিও ফরম্যাটে পড়ার উপায়
নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি দৈনিক খবরের কাগজ, নাম শুনলেই বোঝা যায় যার কেন্দ্র নিউ ইয়র্ক সিটি। ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি অসংখ্য পুরস্কার আর সম্মাননা পেয়েছে। নিঃসন্দেহে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস। অনেকে বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত পড়ছেন। এখন সেটিই আরও আপডেট হয়ে অডিও ফরম্যাটেও পাওয়া যায়, চাইলে নিজেও অডিও জেনারেট করতে পারবেন। NYT-র ডিজিটাল আর্কাইভও আছে, যেখানে পুরনো সংখ্যা ঘেঁটে বের করে নিতে পারবেন। এতে করে যেকোনো টেক্সট-টু-স্পিচ টুল পুরোটা পড়ে শোনাতে পারবে, যা অনেকের জন্য ভীষণ কাজে আসে। ইচ্ছে করলে পুরনো সংখ্যা পড়ে দেখতে পারবেন, আবার নতুন সংখ্যা সাবস্ক্রাইব করেও পড়তে/শুনতে পারবেন—ফিজিক্যাল বা ডিজিটাল, যেটাই হোক।
নিউ ইয়র্ক টাইমস টেক্সট-টু-স্পিচ-এ পড়ার সুবিধা
নিউ ইয়র্ক টাইমস ওয়েবসাইটে নিজস্ব TTS টুল নেই, তাই আলাদা করে একটা অ্যাপ বা টুল লাগবে—যা সেটআপ করাও খুব সহজ। পছন্দের অ্যাপ বেছে নিলেই প্রথম দিন থেকেই নিউ ইয়র্ক টাইমস শুনে ফেলা যাবে। এর সুবিধা কিন্তু অনেক। এগুলো মূলত অ্যাক্সেসিবিলিটি ভালো করে—তাই এখন প্রায় সব ডিভাইসেই বিল্ট-ইন TTS থাকে। যাদের পড়তে কষ্ট হয়, দৃষ্টিশক্তি সমস্যা আছে বা অন্য অবস্থায় ভোগেন, তাদের জন্যও এগুলো দারুণ সহায়ক। সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা ডিসলেক্সিয়া, যা প্রতি পাঁচজনে প্রায় একজনের থাকে। ভাষা শেখাতেও বড় সহায়ক; পরিষ্কার উচ্চারণে শুনলে শিক্ষার্থীরা প্রনানসিয়েশন আর ভাষাগত দক্ষতা ঝালিয়ে নিতে পারে। অনেকেই অডিটরি লার্নার—তাদের জন্য কানে শুনে তথ্য নেয়া সবচেয়ে সহজ। নিজের ডিভাইসে এক ক্লিকেই সেটা সম্ভব। বাড়তি প্লাস পয়েন্ট—স্পিড নিয়ন্ত্রণ করা যায়; চাইলে খুব দ্রুত, আবার চাইলে একটু ধীরে শোনাও যাবে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার, TTS অ্যাপ কেবল নিউ ইয়র্ক টাইমস নয়, ডেইলি মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা প্রায় যেকোনো ওয়েবসাইটেই কাজ করে। ব্রাউজারে অ্যাপ ইনস্টল থাকলেই যেকোনো পেজকে ‘ভয়েসে’ রূপান্তর করতে পারবেন। একসাথে নানান কাজ সামলাতে সামলাতে খবর কানে রাখা যায়—শপিং, রান্না, বাসা পরিষ্কার, এমনকি আইফোনে অন্য প্লেলিস্ট চালিয়েও। চাইলে শুধু নিজের শহরের খবর, বা ধরুন আলাবামা? সুপ্রিম কোর্টের রায় থেকে শুরু করে রনি ও’সলিভানের জয়—সব খবরই নিউ ইয়র্ক টাইমসে পাওয়া যায়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য সংবাদপত্র পড়তে স্পিচিফাই ব্যবহার করুন
মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, নিউ ইয়র্ক টাইমস বা অন্য সংবাদপত্র শোনার জন্য কোন অ্যাপটাই সেরা? তার উত্তর হলো, স্পিচিফাই দারুণ এক সমাধান। API পাওয়া যায় iOS, Android, Mac ও Windows-এ; একবার অ্যাকাউন্ট খুললেই সব ডিভাইস সিঙ্ক করা যায়। ক্লাউডে অগ্রগতি সেভ হয়, iCloud, Dropbox, Google Drive-ও সাপোর্ট করে। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—স্পিচিফাইয়ের হাই-কোয়ালিটি কণ্ঠস্বর। প্রতিটি AI কণ্ঠ বেশ স্বাভাবিক আর প্রাণবন্ত। NYTimes সাবস্ক্রিপশন থাকলে ব্রাউজার এক্সটেনশনের মাধ্যমেও সরাসরি খবর শুনে নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, কাগজের কপির ছবি তুলে স্পিচিফাই দিয়ে পড়িয়ে নিতে পারবেন—কারণ এতে বিল্ট-ইন OCR আছে এবং একাধিক ভাষায় সাপোর্ট করে। প্রাকৃতিক শোনার কণ্ঠ থেকে বেছে নেওয়ার অপশনও অনেক; আছে নানান কণ্ঠ, অ্যাকসেন্ট আর ভাষার পছন্দ। ফলে ফিচার আর কাস্টমাইজ করার সুযোগও থাকে বেশ। স্পিচিফাই প্রায় যেকোনো সংবাদপত্র, ব্লগ বা ওয়েবসাইটেই কাজ করে; তাই মুহূর্তে নিজের মত করে পডকাস্ট বা অডিওবুক বানিয়ে নেওয়া একদম সহজ।
প্রশ্নোত্তর
NY টাইমস পড়া কি ফ্রি?
না। আপনি যেকোনো সংস্করণই (প্রিন্ট বা ডিজিটাল) নিন, কিনতে হবে। NYTimes ওয়েবসাইটের কিছু সেকশন ফ্রি, আর nytimes.com Covid-19-র খবর সবার জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। সাবস্ক্রাইব না করলে শেষে পে-ওয়াল চলে আসবে।
কে পড়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস?
পুরুষ-নারী দু’জনই নিউ ইয়র্ক টাইমস পড়েন, প্রায় সমান অনুপাতে। বয়সের হিসাবে বেশিরভাগই তরুণ; বৃহত্তম পাঠকগোষ্ঠী ৩০–৪৯ বছর, আর দ্বিতীয় বৃহত্তম ১৮–৩০ বছর বয়সীরা।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের কত সাবস্ক্রাইবার?
গত বছর নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রায় ৮ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার ছিল। এখন এই সংখ্যা ৯ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। লক্ষ্য—২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ১৫ মিলিয়ন স্পর্শ করা।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের মূল্য কত?
সবশেষ হিসাব অনুযায়ী ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন মাসে প্রায় $18.42 থেকে এবং প্রিন্ট সাবস্ক্রিপশন সপ্তাহে প্রায় $6.90 থেকে শুরু হয়। ফিচার আর অফারের ধরন অনুযায়ী দাম কমবেশি হতে পারে।

