সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এখন ভিডিও কনটেন্টের দাপট। টুইটারেও, যেখানে রিয়েল-টাইম কথাবার্তা চলে, ভালো ভিডিও কোয়ালিটির জন্য প্রয়োজনমতো ভিডিও রিসাইজ, ট্রিম বা কাট করা লাগতে পারে। এই আর্টিকেলে "Twitter Video Cutter" ব্যবহারের পুরো টিউটোরিয়াল পাবেন, যা আপনাকে টুইটার গাইডলাইন মেনে ভিডিও এডিট ও মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
টুইটারে ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশ কীভাবে কাটবেন?
টুইটারে বিল্ট-ইন ভিডিও কাটার নেই, তবে বিভিন্ন সফটওয়্যার বা অনলাইন টুল দিয়ে সহজেই ভিডিও ট্রিম করতে পারেন। কাটার পর এডিটেড ক্লিপ সরাসরি আপলোড করা যায়। সহজ ধাপগুলো:
- পছন্দের ভিডিও এডিটর বা ট্রিমার বেছে নিন।
- যে ভিডিও কাটতে চান, সেটি (.mov, .mkv, .avi, .gif ইত্যাদি) ওপেন করুন।
- সফটওয়্যারের নির্দেশনা মেনে ভিডিও ট্রিম/কাট করুন।
- ভিডিও সেভ করে টুইটারে আপলোড করুন।
টুইটার ভিডিওকে ফ্রেমে ভাগ করবেন কীভাবে?
ভিডিও এডিটিং টুল দিয়ে সহজেই ভিডিওকে ফ্রেম বা স্থির ছবিতে ভেঙে নেওয়া যায়। এতে ভিডিওর ডিটেইল ধরতে বা স্টোরিবোর্ড বানাতে সুবিধা হয়। কাটার পর চাইলে এসব ফ্রেম ছবি বা নতুন ভিডিও বানিয়ে টুইটারে শেয়ার করতে পারেন।
টুইটারের ভিডিও লিমিট ঘুরিয়ে কীভাবে এড়াবেন?
আগে টুইটারে ভিডিওর দৈর্ঘ্য ছিল ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড। এখন কিছু ক্ষেত্রে লম্বা ভিডিওও চলে। অফিসিয়ালি লিমিট ভাঙার উপায় নেই, তবে এডিটর দিয়ে বড় ভিডিও ছোট ছোট ক্লিপে কেটে থ্রেড/সিরিজ টুইট হিসেবে পোস্ট করতে পারেন।
টুইটারের জন্য কোন সাইজের ভিডিও কাটবেন?
টুইটার ভিডিওর অ্যাসপেক্ট রেশিও ১:২.৩৯ থেকে ২.৩৯:১ হওয়া ভালো এবং সর্বোচ্চ সাইজ ৫১২ এমবি। ভিডিও এডিটরে কেটে-ছেঁটে এই মাপের মধ্যে নিয়ে আসুন।
টুইটার ভিডিও কীভাবে এডিট করবেন?
ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার বা অনলাইন এডিটর ব্যবহার করে আগে ভিডিও এডিট করুন—সাবটাইটেল, ট্রানজিশন, ওয়াটারমার্ক, অ্যানিমেশন, কাট/ট্রিম, কোয়ালিটি অ্যাডজাস্ট সবই করতে পারবেন। তারপর ভিডিওটি টুইটারে আপলোড দিন।
টুইটার ভিডিও আর ইউটিউব ভিডিওর পার্থক্য কী?
মূল পার্থক্য—ভিডিওর দৈর্ঘ্য আর উদ্দেশ্য। টুইটার ভিডিও সর্বাধিক ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড, ছোট আর দ্রুত দেখে ফেলার মতো। ইউটিউব ভিডিও অনেক বড় হতে পারে, ডিটেইল গাইড বা রিভিউর জন্য পারফেক্ট। এছাড়া, ইউটিউবে ইন-বিল্ট এডিটিং টুল আছে, টুইটারে নেই।
আপনার টুইটার ভিডিওর জন্য ৯টি দরকারি ভিডিও এডিটিং টুল:
- Speechify Video: Speechify Video Speechify AI studio-র অংশ; সহজে এআই দিয়ে ভিডিও বানানো আর এডিট করা যায়।
- Adobe Premiere Rush: কাট, রিসাইজ, ট্রানজিশন, সাবটাইটেল, টেম্পলেট আর ফন্টসহ শক্তিশালী এডিটর। ম্যাক, আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডে চলে।
- InVideo: অনলাইন এডিটর; লাইভ এডিট, টেম্পলেট আর সহজ কাটার সুবিধা। যেকোনো ব্রাউজারে কাজ করে।
- Quik: GoPro-র টুল; ভিডিও কাট/এডিটের জন্য। আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডে ব্যবহার করা যায়।
- Clideo: অনলাইন ভিডিও কাটার; নানা ফরম্যাট আর সাইজের ভিডিও সহজে কাটতে পারবেন।
- Kapwing: অনলাইন এডিটর; রিসাইজ, ওয়াটারমার্ক, কাট, আর নানা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য রেডিমেড টেম্পলেট দেয়।
- iMovie: ম্যাক/আইফোনের ভিডিও এডিটর; ট্রানজিশন, কাটসহ নানা দরকারি ফিচার আছে।
- VivaVideo: আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডে; ভিডিও কাট, তৈরি, এডিট আর স্পেশাল ইফেক্টের সুবিধা দেয়।
- FilmoraGo: সহজ ভিডিও তৈরি, কাট, সাবটাইটেল, ফিল্টারসহ নানান টুল; আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডে চলে।
আশা করি এই গাইডটা টুইটারে ভিডিও এডিটিংয়ে আপনার হাত পাকাতে সাহায্য করবে। মনে রাখুন, সেরা ভিডিও সেটাই, যা আপনার দর্শক আর প্ল্যাটফর্ম—দুইয়ের সঙ্গেই ঠিকভাবে মানিয়ে যায়।

