প্রযুক্তি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর ভিডিও বানানো এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কনটেন্ট বানানো হোক বা কোম্পানির ডিজিটাল মার্কেটিং বাড়ানো—এই দুই ক্ষেত্রেই এআই ভিডিও জেনারেটর দারুণ কাজে দেয়।
এই লেখায় আপনি এই নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে দরকারি সব তথ্য, আর কিছু সেরা এআই টুলের রিকমেন্ডেশন পাবেন, যেগুলো সাধারণ টেক্সটকে মুহূর্তে আকর্ষণীয় ভিডিওতে রূপ দেবে।
টেক্সট টু ভিডিও কী?
টেক্সট টু ভিডিও এমন এক ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম, যা টেক্সটকে উন্নত মানের ভিডিওতে রূপান্তর করে। এই কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় ডিকোডার, সফটওয়্যার, টেক্সট বর্ণনা, ডেটা সেট বা স্পিচ সিন্থেসিস।
এআই টেক্সট টু ভিডিও, টেক্সট টু ইমেজের চেয়ে বেশি জটিল, কারণ অল্প সময়ে অনেকগুলো ইমেজ তৈরি করতে হয়। গুণগত মান অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কতটা বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন তার উপর।
এই টুলগুলোর পেছনের প্রযুক্তি
টেক্সট টু ইমেজের মতোই, টেক্সট টু ভিডিওও মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ও NLP-ভিত্তিক। যদিও প্রতিটি কোম্পানির ভিডিও জেনারেটর কিছু আলাদা উপাদান ব্যবহার করে, কেউ কেউ অটোরিগ্রেসিভ ট্রান্সফরমার ডিকোডার ব্যবহার করে যা পরবর্তী ফ্রেম বা ইমেজ অনুমান করে।
অন্যরা বর্ণনা ও ইমেজ-ভিডিও ডেটা সেটের ওপর নির্ভর করে। অপরদিকে, টেক্সট টু স্পিচ সিন্থেসিসে কয়েকটি ধাপ থাকে, যা টেক্সট থেকে অর্থ বের করে তা ইমেজ সিকোয়েন্সে রূপান্তর করে।
ভিডিও মডেল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, তাই মূল টেক্সট থেকে সরে যাওয়া খুব সহজেই ঘটে। ভিডিওর মানও সীমিত এবং উন্নতির জন্য আরও বেশি ডেটা দরকার। কিছু এআই ভিডিও জেনারেটর শুধু ইংরেজি বোঝে এবং বেশ সাধারণ ধরনের ভিডিওই তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, টাইটেল, ওয়াটারমার্ক ইত্যাদি যোগ করার অপশনও অনেক সময় সীমিত থাকে।
এআই দিয়ে ভিডিও তৈরির ধাপগুলি
অনেক এআই টেক্সট টু ভিডিও টুল আছে, তবে ভিডিও বানানোর ক্ষেত্রে বেশির ভাগের কাজের ধাপ প্রায় একই রকম। এই অংশে জনপ্রিয় এআই ভিডিও মেকার InVideo-কে ভিত্তি করে মূল ধাপগুলো দেখানো হলো।
- টেমপ্লেট বাছাই — টেমপ্লেট লাইব্রেরি থেকে পছন্দমতো টেমপ্লেট দেখে সাইজ সিলেক্ট করুন, তারপর 'Use template' ক্লিক করুন।
- টেক্সট লিখুন — ভিডিও স্ক্রিপ্ট এডিটরে লিখতে হবে, প্রতিটি বাক্য হবে নতুন সিন। প্রোগ্রাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টক ফুটেজ সাজেস্ট করবে। 'Create scenes' ক্লিক করে সিন এড, রিমুভ বা ডুপ্লিকেট করতে পারেন।
- ক্যানভাস কাস্টমাইজ — স্টক ফুটেজের বদলে আপনার নিজের ভিডিও, ছবি, অডিও যোগ করুন। ফন্ট, অ্যালাইনমেন্টও পরিবর্তন করা যাবে।
- অ্যাডভান্সড এডিটিং — প্রয়োজনে ট্রানজিশন, ইফেক্ট, ফিল্টার ইত্যাদি যোগ করুন।
- ডাউনলোড — সব ঠিক থাকলে ডাউনলোড করুন, অথবা সরাসরি ইউটিউব ও অন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।
আপনার জন্য কিছু টেক্সট টু ভিডিও টুল
ভিডিও বানানো আরও সহজ করতে, বা অফিসের কাজের গতি বাড়াতে ট্রেনিং ভিডিও তৈরির জন্য এগুলোর যেকোনো শীর্ষ এআই টুল ট্রাই করে দেখতে পারেন।
- InVideo — সহজ ড্র্যাগ-ড্রপ অনলাইন ভিডিও এডিটর, ৫০+ টেমপ্লেট, ফ্রি মিডিয়া লাইব্রেরি। ফ্রি ভার্সনে ওয়াটারমার্ক থাকে। মার্কেটিং ভিডিও ও ব্যাখ্যামূলক ভিডিও বানাতে দারুণ।
- Designs.ai — শুধু টেক্সট দিয়ে উন্নত অ্যানিমেশন, মিউজিক আর ইফেক্টসহ ভিডিও তৈরি করে। এক্সপ্লেইনার, প্রোমো ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া ক্লিপের জন্য উপযোগী।
- Veed.io — সহজ এডিটর, এআই ব্যবহার করে কম খরচে দ্রুত কাজ করা যায়। ফন্ট, কালার, মিউজিকসহ কাস্টমাইজের সুবিধা আছে।
- Synthesia — বাজারের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত এআই ভিডিও ও এআই অ্যাভাটার দেয়। ব্লগার ভিডিও, টিউটোরিয়াল, ই-কমার্স ভিডিও বিজ্ঞাপনে বহুল ব্যবহৃত।
- Synths.video — ওয়েব অ্যাপ, ৪০+ মানব অ্যাভাটার ও ৪০ ভাষার সাপোর্ট। মূলত ইউটিউব ভিডিওর জন্য, সরাসরি চ্যানেলে আপলোড করা যায়।
- Pictory.ai — নতুনদের জন্য দারুণ উপযোগী। শুধু টেক্সট দিন, ভয়েস অভিনেতা বেছে নিন। সাউন্ড ইফেক্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকসহ পুরো ভিডিও বানিয়ে দেয়।
Speechify দিয়ে ভিডিও বানাতে আরও এআই যুক্ত করুন

ভিডিওর জন্য প্রফেশনাল মানের ভয়েসওভার চাইলে Speechify ব্যবহার করে দেখুন। Speechify হলো শীর্ষস্থানীয় টেক্সট টু স্পিচ সেবা, যেখানে এআই ভয়েসে দুর্দান্ত মানের ভয়েসওভার তৈরি করা যায়। এখানে পাবেন ১২০+ ভয়েস, তার মধ্যে সেলিব্রেটি ভয়েস যেমন Snoop Dogg, Gwyneth Paltrow-ও আছে।
ভয়েসওভারের গতি নিজের মতো করে ঠিক করতে পারবেন এবং চাইলে নতুন ভয়েসও রিকোয়েস্ট করতে পারেন, এতে আপনার কনটেন্ট হবে আরও ইউনিক। এছাড়া Speechify দিয়ে ৩০+ ভাষায় অনুবাদ করতেও পারবেন।
ফ্রি Speechify অ্যাপ ডাউনলোড করুন, আর পছন্দের ডিভাইসে আপনার প্রথম ভিডিও ভয়েসওভার তৈরি করে নিন।
প্রশ্নোত্তর
সেরা এআই ভিডিও জেনারেটরটি কোনটি?
জনপ্রিয় এআই ভিডিও জেনারেটর টুলের মধ্যে Pictory, Synthesia ও InVideo বর্তমানে সেরা হিসেবে ধরা হয়।
কোন ফ্রি এআই ভিডিও জেনারেটর আছে কি?
অনেক ভিডিও এডিটর আছে, যেগুলো এআই ব্যবহার করে টেক্সটকে ভিডিও বানায়। কিছু পুরোপুরি ফ্রি, কিছু আবার ফ্রি ভার্সন বা প্ল্যান দেয়। উদাহরণ: Lumen5, Animaker, Biteable, Powtoon, Rocketium, Vyond, Wibbits, Renderforest।
ইউটিউবাররা কোন এআই জেনারেটর ব্যবহার করেন?
ইউটিউবাররা সাধারণত এআই বর্ণনা ও ইমেজ জেনারেটর ব্যবহার করেন। ইউটিউব ডিসক্রিপশন জেনারেটরের মধ্যে Writesonic, TubeRanker, Rytr, TextCortex ভালো অপশন; আর ইমেজ জেনারেটরের মধ্যে NightCafe, Shutterstock, DALL-E 2, Deep Dream Generator জনপ্রিয়।
ভালো ভিডিও বানানোর উপায় কী?
প্রযুক্তি বদলালেও বাস্তব ভিডিও এখনও দারুণ জনপ্রিয়। ভালো ভিডিও বানাতে পর্যাপ্ত আলো, পরিপাটি ব্যাকগ্রাউন্ড আর নানাভাবে শট নিন। শব্দ যেন পরিষ্কার থাকে। শেষে উপযুক্ত এডিটিং টুল দিয়ে কাটছাঁট করুন, কিন্তু অতি এডিটিং এড়িয়ে চলুন।
ইউটিউবের জন্য সেরা এআই ভিডিও জেনারেটর কোনটি?
ইউটিউব ভিডিওর জন্য Pictory, Synthesia ও Steve.ai এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এআই ভিডিও জেনারেটর।
ইউটিউবাররা কি এআই দিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই পারেন। আসলে, অনেক এআই ভিডিও জেনারেটরই শুরু থেকেই ইউটিউব কনটেন্টের জন্য অপ্টিমাইজড।
সবচেয়ে সহজ এআই ভিডিও জেনারেটর কোনটি?
সবচেয়ে ব্যবহার-বান্ধব এআই ভিডিও ক্রিয়েটর হিসেবে Synthesia, Wisecut ও Veed.io বেশ পরিচিত।
সেরা এআই ভিডিও জেনারেটরের বৈশিষ্ট্য কী কী?
প্রি-মেইড টেমপ্লেট, টেক্সট আর মিউজিক ইন্টিগ্রেশন—এসবই ভালো এআই ভিডিও জেনারেটরের মূল বৈশিষ্ট্য।

