শিশুদের পড়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে৷ শুধু পড়ার উপকারিতা তাদের শেখার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ছোট শিশুদের জন্য গল্পের সময়ভিত্তিক কার্যকলাপ পাঠের দক্ষতা ও ভাষার বিকাশে সহায়তা করে। আরও, পড়ার সময় শিশুদের ভাষার দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়ক, যা মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে। শিশুদের পড়াতে গেলে কী বিষয় মাথায় রাখা উচিত, তা এখানে জানুন।
শিশুকে পড়ানো কেন জরুরি
শিশু রোগ বিষয়ে কাজ করা চিকিৎসকরা পড়ার গুরুত্ব বোঝেন এবং জানেন, এটি মনোযোগ ধরে রাখা ও মনোসংযোগের ক্ষমতা বাড়ায়। যখন কেউ শিশুকে পড়ে শোনায়, তখন তার মধ্যে পড়ার ভালোলাগা ও ভালোবাসা জাগে। শিশুদের জন্য বই তাদের জগৎ অন্বেষণ ও নতুন কিছু জানার সুযোগ করে দেয়। যখন শিশু সহজে পড়তে পারে, তখন অন্য বিষয়ও শেখা অনেক সহজ হয়।
শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশ ভবিষ্যৎ গড়তে অত্যন্ত জরুরি। ছোটবেলা থেকে পড়ে শোনালে পিতামাতা-সন্তান সম্পর্ক গভীর ও মজবুত হয়। বাবা-মা যখন পড়ে শোনান, তখন সন্তানরা বইয়ের গুরুত্ব বোঝে। বই পড়া মানেই জ্ঞান ও আনন্দ—শিশুরা নিজেরাই পড়তে শেখার আগেই কিংবা লিখিত শব্দ বুঝতে অসুবিধা হলে পড়ে শোনার মাধ্যমে অনেক কিছু রপ্ত করে।
পড়া শিশুর বিকাশে কীভাবে প্রভাব ফেলে
বিভিন্ন উপায়ে পড়া শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলে। বই পড়া শিশুকে নতুন শব্দ ও বাক্য শেখায়। এটি কল্পনাশক্তি বাড়ায়, আর স্বাক্ষরতা দক্ষতাও উন্নত হয়। বয়স্ক শিশু নিজেদের পড়তে চাইতে পারে, আবার খুব ছোটরা শুনে পড়া বেশি পছন্দ করে। যেভাবেই হোক, পড়া অথবা শুনে পড়া শিশুকে সামাজিক যোগাযোগ ও ভালো থাকার অনুভূতি দেয়।
শিশুরা পড়ে শোনার মাধ্যমে আরেকটি বড় সুবিধা পায়, সেটি হলো শোনা ও বোঝার দক্ষতা এবং যোগাযোগ দক্ষতা। এই দক্ষতাগুলো শিশু বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শুনে পড়া শিশুদের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশে এগিয়ে রাখে। বই শোনার অভিজ্ঞতা দারুণ আনন্দের, আর ডিসলেক্সিয়া বা পড়ার সমস্যায় ভোগা শিশুদের জন্য পড়ে শোনানো সত্যিই জীবন বদলে দিতে পারে।
Speechify-এর প্রতিষ্ঠাতা Cliff Weitzman ছোটবেলায় পড়ে শোনার আনন্দ পেয়েছিলেন—তিনি একটি দারুণ উদাহরণ। তার গল্প দেখুন।
https://youtu.be/zZYDJbjvfE8
শিশুদের জোরে পড়ে শোনানোর গুরুত্বপূর্ণ কারণ
PBS-এর মতো চ্যানেলে পড়ার অনুষ্ঠান হয়। এতে গল্প পড়ে শোনানো হয়, এরপর শিশুরা গল্প অনুসরণে আগ্রহী হয়। এভাবে পড়ে শোনানো শিশুর জীবনে সত্যিই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বড় হলে শিশুরা স্কুলের পড়া-লেখাও শুনে অনেক উপকার পেতে পারে। অনেক শিশু এইভাবে তথ্য সহজে মনে রাখে, এতে তাদের পড়াশোনার ফল ভালো হয়।
শিশুর ছোটবেলা ভাষা শেখা ও দৈনিক রুটিনে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ সময়। স্থানীয় লাইব্রেরি ঘুরে আসা ও রাতে ঘুমানোর আগে গল্প পড়া তা করতে সাহায্য করতে পারে। স্বাধীনভাবে পড়াও উৎসাহিত করা উচিত, তবে সবার তথ্য মনে রাখার ধরন একরকম নয়। যেসব শিশু কষ্ট পায় বা পড়া ও অর্থ মনে রাখতে সমস্যা হয়, তারা জোরে পড়ে শোনানোর মাধ্যমে বাড়তি উপকার পায়।
শিশুকে পড়ে শোনানো জ্ঞানীয় বিকাশে সহায়ক
ছোটবেলা থেকেই যাদের পড়ে শোনানো হয়, তাদের যোগাযোগ ও কথা বলার দক্ষতা তাড়াতাড়ি গড়ে ওঠে। এছাড়াও অনুশাসন ও মনোযোগ বাড়ে। গল্প শোনা, গল্প বলা ও এমনকি ভিডিও গেমেও সৃজনশীলভাবে ব্যস্ত থাকার অভ্যাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং তারা সমবেদনা গড়ে তোলে, কারণ গল্পের চরিত্রে নিজেদের রেখে বিভিন্ন আবেগ অনুভব করে।
চিকিৎসকরা প্রায়ই জ্ঞানীয়/শিক্ষাসংক্রান্ত অসুবিধা রয়েছে এমন শিশুদের সহায়তায় বোর্ড বই দেন, যা শিশুদের পড়ায় আগ্রহী করে। ছোট শিশুরা নিজেরা পড়তে পারে না, তাই পিতামাতা বা বড়রা পড়ে শোনাতে পারে। বড় ভাইবোনরাও ছোটদের পড়ে শোনাতে পারে এবং সবাই মিলে গল্পের চরিত্রের অনুভূতি ভাগাভাগি করতে পারে।
যখন কোনো অভিভাবক শিশুকে পড়ে শোনান, তখন তিনি নিজের এবং শিশুর দুজনেরই জীবন সমৃদ্ধ করেন। সেইসঙ্গে ভালো সামাজিক দক্ষতা গড়ে তুলতে সাহায্য করেন, কারণ পড়া থেকে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা হয়, যা বাস্তব জীবনে কাজে লাগে। গল্পের চরিত্র কোনো সমস্যা কীভাবে সামলে নেয়, তা জানা শিশুকে নিজের বা কাছের মানুষের জীবনের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শিশুকে পড়ানো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শিশুদের জোরে বই পড়া তাদের চিন্তা ও কল্পশক্তি বাড়ায়, এবং শোনার ও ভাষা দক্ষতা শানিত করে। যাদের পড়ে শোনানো হয়, তারা নিজেরা পড়ার জন্য বেশি প্রস্তুত থাকে, এবং লিখিত শব্দ ও অর্থ সহজে বুঝতে শেখে।
পড়া কীভাবে শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলে?
পড়া শিশুর মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে, এতে তা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। পড়ে শোনালে বোঝার ক্ষমতা ও শব্দভাণ্ডার উন্নত হয়। একই সঙ্গে শিশুর আত্মবিশ্বাস, সহানুভূতি ও কল্পনাশক্তিও বাড়ে।
শিশুদের বই পড়ার আসল উদ্দেশ্য কী?
জোরে পড়ে শোনানোর একাধিক সুন্দর উদ্দেশ্য রয়েছে। এতে শিশুর মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে, মস্তিষ্কের অনুশীলন হয়। বই পড়া বিশ্বের নানা দিক জানতে সাহায্য করে। পড়তে বা শুনতে গিয়ে শিশু সহানুভূতি, ভাষাগত দক্ষতা, কল্পনা ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বাড়াতে পারে।
পড়া সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশু এখনো নিজে পড়তে শেখেনি, কিংবা মুদ্রিত শব্দ বুঝতে সমস্যা হলে জোরে পড়ে শোনানো ভীষণ কাজে আসে। পিতা-মাতা, শিক্ষকসহ যারা পড়ে শোনান, তারা শিশুদের খুব দরকারি দক্ষতা গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। এসব দক্ষতা জীবনে, পড়াশোনায় ও বড় হওয়ার পথে অনেক উপকারে আসে। ছোটবেলার শিক্ষা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলে।

