২০২২ সালের সেরা ই-রিডার এবং ট্যাবলেট
নতুন বই পড়তে চান কিন্তু বার্নস অ্যান্ড নোবলে গিয়ে বই কিনতে মন চায় না? ঘরে বইয়ের পাহাড় জমে জায়গা কমে যাচ্ছে দেখে বিরক্ত? এবার ডিজিটাল সমাধানে যাওয়ার সময়। এখানেই ই-রিডার ও ট্যাবলেট হয়ে উঠতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। চলুন দেখে নেই ২০২২ সালের বাজারে থাকা সেরা পাঁচটি ই-রিডার ও ট্যাবলেট।
ই-রিডার বা ট্যাবলেট ব্যবহার করার সুবিধা
বাড়িতে জঞ্জাল কমানোর পাশাপাশি ই-রিডার বা ট্যাবলেট ব্যবহারের আরও কিছু বড় সুবিধা আছে:
- বড় স্ক্রিন ও টাচস্ক্রিন থাকায় টেক্সট জুম বা ফন্টের মাপ বদলানো একেবারে সহজ।
- ট্যাবলেট ও ই-রিডার হালকা, তাই অনেকক্ষণ ধরে পড়লেও হাতে চাপ পড়ে না।
- হাজার হাজার বই এক ডিভাইসেই রাখা যায়— বইপোকাদের জন্য একেবারে আদর্শ।
- বিভিন্ন ফাইল ফরম্যাট সাপোর্ট করে, তাই সাধারণ বই থেকে গ্রাফিক নভেলও কোনো ঝামেলা ছাড়াই পড়তে পারবেন।
- ফ্রন্ট লাইট বা ব্যাকলাইটে গ্লেয়ার কমে, পড়া আরও আরামদায়ক হয় এবং ব্লু লাইট ফিল্টার চোখের চাপ কমায়।
- অনেক ই-রিডার ও ট্যাবলেটে অ্যাপ ব্যবহার ও নোট নেওয়ার সুবিধাও থাকে।
বর্তমানে বাজারের সেরা ৫টি ই-রিডার ও ট্যাবলেট
অ্যামাজন কিন্ডল ওএসিস
অ্যামাজনের প্রিমিয়াম ই-রিডার, কিন্ডল ওএসিস, দারুণ ই-বুক অভিজ্ঞতার জন্য অনেকের প্রথম পছন্দ। বড় ৭-ইঞ্চি স্ক্রিনে ৩০০ পিপিআই ডিসপ্লে থাকায় লেখা ও ছবি দুটিই খুব স্পষ্ট দেখা যায়। ইউএসবি-সি পোর্ট থাকায় দ্রুত চার্জ হয়। পৃষ্ঠা টার্ন বাটন ও ফন্ট সাইজ সহজেই বদলাতে পারেন। সেটিংস থেকে ব্রাইটনেসও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে দাম বেশি, হেডফোন জ্যাক নেই, আর সাধারণ কিন্ডলের চেয়ে একটু মোটা হওয়ায় চেহারায় এতটা স্মার্ট লাগে না।
অ্যামাজন কিন্ডল পেপারহোয়াইট
শার্প ই-ইঙ্ক ডিসপ্লে সহ কিন্ডল পেপারহোয়াইট এবং পেপারহোয়াইট সিগনেচার এডিশন সোজাসাপটা, নির্ভরযোগ্য পড়ার অভিজ্ঞতা দেয়। বড় ৬.৮-ইঞ্চি স্ক্রিনে পড়া বেশ আরামদায়ক। ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী। পানিরোধী, অটো-অ্যাডজাস্ট ব্রাইটনেস ও ওয়ার্ম লাইট অপশনও আছে। অসুবিধা হলো— অ্যামাজনের বাইরের বইয়ের সাপোর্ট কম, ইন্টারফেস কিছুটা পুরনো ধাঁচের, আর হেডফোন জ্যাক বা ফিজিক্যাল বাটন নেই। সাধারণ পেপারহোয়াইটে ৮ জিবি স্টোরেজ আর পেপারহোয়াইট সিগনেচার এডিশনে ৩২ জিবি, যা তুলনায় অনেক বেশি।
অ্যাপল আইপ্যাড
আইপ্যাডে কিন্ডলের মতো ই-ইঙ্ক স্ক্রিন নেই, তবে বহুমুখী হওয়ায় বই পড়ার পাশাপাশি আরও অনেক কাজেই ব্যবহার করা যায়। নানান ধরনের অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবেন। রঙিন গ্রাফিক নভেল ও টেক্সটবুক পড়ার জন্যও এটা দারুণ। সমস্যা হলো, ব্যাটারি সাধারণত ৪–৬ ঘণ্টা টেকে, তাই শুধু লম্বা সময় ধরে পড়ার জন্য এটি সেরা নয়। তার ওপর অনেক অ্যাপ চালাতে ইন্টারনেট সংযোগ দরকার পড়ে।
কোবো ক্লারা এইচডি
৩০০ পিপিআই স্ক্রিনসহ কোবো ক্লারা এইচডি তাদের জন্য চমৎকার, যারা লাইব্রেরি থেকে বই ধার করে পড়তে পছন্দ করেন। এতে রয়েছে ওভারড্রাইভ সফটওয়্যার, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ লাইব্রেরির বই পাওয়া যায়। কিন্ডলের ভালো বিকল্প বলা যায়। ওভারড্রাইভের কারণে বই কিনে রাখার ঝামেলা নেই, সহজে ধার নিয়ে পড়া ও সময়মতো ফেরত দেওয়া যায়। রঙ বদলানো যায় এমন ফ্রন্ট লাইট ও হালকা ওজনের কারণে হাতে নেওয়াও আরামদায়ক। পিডিএফ, ইপাব, আরটিএফ, জেপিইজি সহ নানা ফরম্যাট সাপোর্ট করে। তবে বাজেট ফ্রেন্ডলি হওয়ায় ওয়াটারপ্রুফ নয়, আর অডিওবুকও চলে না। কোবো সেজ, এলিপ্সা, লিব্রা ২-তেও একই ধরনের প্রযুক্তি থাকায় সেগুলোকেও তালিকায় ধরা যেতে পারে।
অ্যামাজন কিন্ডল কিডস এডিশন
অ্যামাজন কিডস সিরিজের কিন্ডল মূলত সাধারণ কিন্ডলের সাথেই কিছু বাড়তি শিশু-বান্ধব ফিচার যোগ করে তৈরি করা। কিন্ডল কিডস এডিশনে প্রটেকটিভ কেস ও ক্ষতির গ্যারান্টি দেওয়া থাকে, তাই বাচ্চারা তুলনামূলক নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারে। সঙ্গে ফ্রি ফায়ার ফর কিডস আনলিমিটেড সাবস্ক্রিপশন ও হ্যারি পটার সিরিজও পাওয়া যায়। তবে লাইব্রেরি সীমিত, তাই আরও বই পড়তে চাইলে আলাদা করে কিনতে হতে পারে।
প্রশ্নোত্তর
ট্যাবলেট না ই-বুক রিডার, কোনটা ভালো?
যদি অনেক বই পড়েন আর চোখের ক্লান্তি কমাতে চান, ই-বুক রিডারই ভালো পছন্দ। ট্যাবলেট বেশি ফিচার ও নানা কাজের সুবিধা দেয়, যেমন ওয়্যারলেস চার্জিং, গেম, ভিডিও ইত্যাদি।
ট্যাবলেট কি ই-রিডার হিসেবে ব্যবহার করা যায়?
হ্যাঁ, ট্যাবলেট সহজেই ই-রিডার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কিন্ডল অ্যাপ, কিন্ডল আনলিমিটেডসহ নানা অফার ও রিডিং অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশ্বের সেরা ই-রিডার কোনটি?
এখানে উল্লেখিত পাঁচটি ডিভাইসই দারুণ মানের। চাইলে নুক গ্লোলাইট, অনিক্স বুক্স ম্যাক্স কার্টা বা যেকোনো কিন্ডল মডেলও বিবেচনায় রাখতে পারেন।
ট্যাবলেট ও ই-রিডারের পার্থক্য কী?
ই-রিডার মূলত বই ও টেক্সট ফাইল পড়ার জন্য বানানো। আর ট্যাবলেটে অ্যাপ, গেম, ভিডিওসহ নানা ফিচার থাকে, তার মধ্যে ই-বুক পড়ার সুবিধা একটা অংশ মাত্র।
সবচেয়ে সাশ্রয়ী ট্যাবলেট কোনটি?
বিভিন্ন দামে অনেক সাশ্রয়ী ট্যাবলেট বাজারে আছে। দাম আর ই-রিডার হিসেবে ব্যবহারযোগ্যতার দিক থেকে অ্যামাজন ফায়ার সিরিজ বেশ জনপ্রিয়।
ট্যাবলেটকে ই-রিডার হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি?
প্রায় সব ট্যাবলেটই সহজেই ই-রিডার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
বই পড়ার জন্য সেরা ট্যাবলেট কোনটি?
আইপ্যাড বহুমুখী হওয়ায় দারুণ, তবে স্যামসাং ও অন্য অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটও বই পড়ার জন্য বেশ ভালো বিকল্প।
কিন্ডল না আইপ্যাড, কোনটি ভালো?
আইপ্যাডের বহুমুখিতার সঙ্গে কোনো কিন্ডলেরই তুলনা চলে না। তবে শুধু বই পড়ার কথা ভাবলে চোখের আরাম ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে কিন্ডলই এগিয়ে।
সেরা ই-রিডার কোনগুলো?
এই লেখায় যে পাঁচটি ডিভাইসের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোই বর্তমানে বাজারের সেরা ই-রিডারের কাতারে পড়ে।
শিশুদের জন্য সেরা ট্যাবলেট কোনটি?
অ্যামাজন কিডস এডিশনের পাশাপাশি কিডস পেপারহোয়াইট ও ফায়ার কিডস এডিশনও দেখে নিতে পারেন।

