কিভাবে শপিং ওয়েবসাইট ব্লক করবেন
শপিং ওয়েবসাইট ব্লক করে অনলাইন কেনাকাটা আর অযথা খরচের ঝোঁক কমান
কিছু ঝটপট কেনা আর বাসায় বসেই অর্ডার করলে অনলাইন শপিং বেশ সুবিধাজনক, কিন্তু খুব সহজেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। অনলাইন শপিং ধীরে ধীরে বাড়ছে, গড়ে একজন ক্রেতা প্রতি সপ্তাহে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পণ্য ঘাঁটাঘাঁটি করেন।
এতটা সময় অনলাইন কেনাকাটায় খরচ করার আসলে তেমন দরকার নেই। এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, বেশিরভাগ মানুষই এমন জিনিস ঘুরে ঘুরে দেখেন, যেগুলো সাধারণত তাদের খুব দরকারি নয়। বেশি ঘাঁটাঘাঁটি মানেই বেশি কেনাকাটা, আর সেখান থেকেই বাড়তি খরচ।
শুরুতে খরচ খুব একটা চোখে পড়ে না, কিন্তু ছোট ছোট কেনাকাটা জমতে জমতে পুরো বাজেট গিলে ফেলে। তাই কতটা ই-কমার্স সাইটে ঢুকছেন, সেটা হাতের মুঠোয় রাখতে হবে।
শপিং ওয়েবসাইট ব্লক করার সুবিধা
আপনি হয়তো সোশ্যাল মিডিয়া, বাড়তি বিভ্রান্তি তৈরি করা সাইট বা প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের ওয়েবসাইট ব্লক করার কথা শুনেছেন। এসব ক্ষেত্রে যেমন ওয়েবসাইট ব্লকার কাজে লাগে, ঠিক তেমনি অনলাইন শপিং নিয়ন্ত্রণেও তা বেশ সহায়ক।
প্রথমেই, এটি আপনার বাজেট বাঁচায়। অনলাইন শপগুলো ব্লকলিস্টে তুলে দিলে হঠাৎ করে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার লোভ কমে যায়। এতে শুধুই প্রয়োজন হলেই ভেবেচিন্তে কিছু কিনবেন।
আরও আছে, নির্দিষ্ট সাইট ব্লক করলে ব্যক্তিগত তথ্যও কিছুটা সুরক্ষিত থাকে। প্রচলিত অনেক ভালো শপিং সাইট থাকলেও, কিছু সাইটে ক্ষতিকর কোড বা বিরক্তিকর পপআপ থাকতে পারে। এসব সাইট ব্ল্যাকলিস্টে রাখলে নিরাপত্তা এক ধাপ বাড়ে।
সবশেষে, শপিং–সংশ্লিষ্ট ওয়েব কনটেন্টও বড় ধরনের বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। সেগুলো ব্লক করলে স্ক্রিন টাইম কমবে, আর মনোযোগ যাবে বেশি ফলদায়ক কাজে।
বিভিন্ন ডিভাইসে শপিং ওয়েবসাইট ব্লকের উপায়
উইন্ডোজ, ম্যাক বা স্মার্টফোন—সব ধরনের ডিভাইসেই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্লক করা যায়। চাইলে কম্পিউটার বা হোম ওয়াই-ফাইতে ব্লক করার মতো ইউনিভার্সাল সমাধানও ব্যবহার করতে পারেন। রাউটারে যদি সাইট ব্লক করার অপশন থাকে, সব কানেক্টেড ডিভাইসে অ্যামাজনসহ যেকোনো শপিং সাইট একসাথে বন্ধ রাখা সম্ভব।
এসব করতে কনটেন্ট রেস্ট্রিকশন অ্যাপ বা ব্রাউজার প্লাগইনের প্রয়োজন হতে পারে। নিচে ডিভাইস অনুযায়ী শপিং ওয়েবসাইট ব্লকের কয়েকটি সাধারণ পদ্ধতি দেওয়া হলো।
ম্যাকে শপিং ওয়েবসাইট কিভাবে ব্লক করবেন
ম্যাকে ওয়েবসাইট ব্লকের সহজ একটি উপায় হলো বিল্ট-ইন প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করা। মূলত প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট সীমিত করতে এটি বানানো, তবে চাইলে এখানে আপনার পছন্দের যেকোনো ওয়েবসাইটের ইউআরএলও ব্লক করতে পারবেন।
সিস্টেম প্রেফারেন্সেস বা টার্মিনাল থেকে Parental Controls (Catalina এবং পরের macOS-এ Screen Time) ওপেন করুন। নতুন অ্যাকাউন্ট বানিয়ে Web অপশনে যান এবং যেসব ঠিকানা ব্লক করতে চান, সেগুলো যোগ করুন।
এই সেটিং ব্যবহার করা সহজ হলেও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন, ফায়ারফক্স, ক্রোম বা অপেরা ব্রাউজারে এর প্রভাব পড়ে না; শুধু Safari তে সাইট ব্লক হয়। পুরোপুরি ব্লক চাইলে আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করাই ভালো।
আইফোনে শপিং ওয়েবসাইট কিভাবে ব্লক করবেন
আইফোন ও আইপ্যাডে ওয়েবসাইট ব্লক করাও ম্যাকের মতোই সোজা। বিল্ট-ইন Screen Time ব্যবহার করতে পারেন, চাইলে অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপও ইনস্টল করা যায়। সুবিধার বিষয়, এখানে কিছু ভালো ফ্রি অ্যাপও মিলে। এগুলো দিয়ে অনুমতি, নোটিফিকেশনসহ আরও কিছু দরকারি সেটিং পাল্টাতে পারবেন।
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে শপিং ওয়েবসাইট ব্লক
অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত আলাদা বিল্ট-ইন ওয়েবসাইট ব্লক অ্যাপ থাকে না। তবে গুগল প্লে স্টোরে নানাধরনের অ্যাপ পাওয়া যায়—সাধারণ সিকিউরিটি অ্যাপ থেকে শুরু করে ডেডিকেটেড ব্লকার আর ফায়ারওয়াল পর্যন্ত।
ক্রোমে শপিং ওয়েবসাইট কিভাবে ব্লক করবেন
গুগল ক্রোম ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে। এখানে হাজার হাজার এক্সটেনশন সহজেই খুঁজে পাবেন। সাইট ব্লকের জন্য দরকার হলে এসব প্লাগইনের সাহায্য নিতে পারেন।
অনেক ক্রোম এক্সটেনশনে থাকে বাড়তি সেটিং—এগুলো দিয়ে নিজের মতো করে সাইট ব্লক করে পুরো ব্রাউজিং অভিজ্ঞতাটাই কাস্টমাইজ করতে পারবেন।
সাফারিতে শপিং সাইট ব্লক
সরাসরি সাফারির ভেতরে সাইট ব্লক করার অপশন নেই। তবে macOS বা iOS-এর সিস্টেম অপশন ব্যবহার করে নির্দিষ্টভাবে সাফারির ট্রাফিক সীমিত করতে পারবেন।
বিভ্রান্তিমুক্ত ব্রাউজিংয়ের বিকল্প
বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে পারলে ইন্টারনেটকে আরও কাজে লাগানো যায়। এর জন্য টেক্সট-টু-স্পিচ টুল, প্রাইভেট সার্চ ইঞ্জিন আর লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন।
টেক্সট-টু-স্পিচ অ্যাপ
টেক্সট-টু-স্পিচ (TTS) টুল অনলাইনে লিখে পড়ার ঝামেলা কমিয়ে সরাসরি শুনে নেয়ার সুযোগ দেয়। এজন্য ভালো মানের টেক্সট-টু-স্পিচ ইঞ্জিন লাগবে।
Speechify–এ অনেক ধরনের কণ্ঠস্বর আর উন্নত কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে। নিজে কান দিয়ে শুনে দেখতে চান? ফ্রি ট্রাই করুন।
প্রাইভেট সার্চ ইঞ্জিন
প্রাইভেট সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করলে অনেক সময় আরও নিরপেক্ষ রেজাল্ট মেলে। ভালো সার্চ ইঞ্জিনগুলো আপনার প্রাইভেসি অক্ষুণ্ন রাখে। গুগল, বিং বা ইয়াহুর বাইরেও অন্য বিকল্প চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
লার্নিং
ইন্টারনেটে অসাধারণ সব শেখার রিসোর্স ভরপুর। বিভ্রান্তি কমলে সহজেই নতুন স্কিল আর জ্ঞানের ওয়েবসাইট খুঁজে পাবেন। অনেক জায়গায় পুরোপুরি বিনামূল্যে পাঠও পাওয়া যায়, যেটা প্রায় যেকোনো বিষয়েই কাজে লাগে।
প্রশ্নোত্তর
কিভাবে অনলাইন শপিং সাইট ব্লক করবো?
শপিংয়ের ঝুঁকি আর আকস্মিক খরচ এড়াতে দুটো কাজ করতে পারেন: এক, অনলাইন শপের নিউজলেটার থেকে আনসাবস্ক্রাইব করুন; দুই, অ্যাপ বা ব্রাউজারের সেটিং থেকে ওই সাইটগুলো ব্লক করুন।
নিজের জন্য কি সাইট ব্লক করা যায়?
অবশ্যই নিজের জন্য, চাইলে অন্য কারও জন্যও সাইট ব্লক করতে পারবেন। এই গাইডে দেয়া ধাপগুলো অনুসরণ করলেই হবে।
মোবাইলে ওয়েবসাইট ব্লক করা যাবে?
সব আধুনিক স্মার্টফোনের জন্যই, আইওএস আর অ্যান্ড্রয়েডে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট ব্লকিং টুল পাওয়া যায়।
ক্রোমে কীভাবে সাইট ব্লক করবো?
ক্রোমে সাইট ব্লক করা বেশ সহজ—সেটিং সামান্য পাল্টালেই হবে, অথবা প্রয়োজনমতো কোনো এক্সটেনশন ইনস্টল করতে পারেন।

