কিভাবে দ্রুত পড়া যায়: টিপস
অনেকেই বেশি পড়তে চান, কিন্তু ধীরে পড়েন বা যতটা দ্রুত চান ততটা পারেন না। আপনি কি কখনো ভেবেছেন, কীভাবে স্পিড রিডাররা এত দ্রুত পড়ার গতি অর্জন করেন?
এখানে কিছু কৌশল আছে যা যে কেউ পড়ার গতি ও বোঝাপড়া বাড়াতে পারবে, যাতে পড়া বিষয় ভালো করে মনে রাখতে পারেন।
দ্রুত পড়া শুরু করতে নিচে কিছু সহজ টিপস দেয়া হলো।
পড়ার গতি: সংক্ষিপ্ত বিবরণ
মানুষ বিভিন্ন গতিতে পড়ে—এটা সত্যি। নানা গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ সাধারণত তাদের কথা বলার গতিতেই পড়েন।
একজন সাধারণ মানুষ প্রতি মিনিটে ১৫০ থেকে ২৫০টি শব্দ পড়ে থাকেন, একে সংক্ষেপে WPM বলা হয়।
রোসালিন স্ট্রাইকলার, Ph.D. (ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান দিয়াগো) এর গবেষণায় দেখা গেছে, গড় ছাত্র/ছাত্রী প্রতি মিনিটে প্রায় ২৫০টি শব্দ পড়ে।
গেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক ব্রিসবার্টের গবেষণায় ১৯০টি স্টাডির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ভাষায় প্রাপ্তবয়স্করা নন-ফিকশনে গড়ে ২৩৮ এবং ফিকশনে ২৬০ WPM গতিতে পড়ে।
পড়ার গতি অনেকটাই নির্ভর করে কী ধরনের লেখা পড়ছেন তার ওপর। নন-ফিকশন সাধারণত ফিকশনের তুলনায় ধীরে পড়া হয়।
স্পিড রিডাররা সাধারণত প্রতি মিনিটে ১০০০+ শব্দ পড়েন। তারা সাবভোকালাইজেশন কমানোর ওপর বেশি জোর দেন; মানে মনে মনে শব্দ শোনা। এটি কমাতে পারলে অনেক দ্রুত পড়া যায়। আমরা এখানে সেরা কিছু কৌশল আলোচনা করবো।
দ্রুত পড়ার কৌশল
আপনার পড়ার গতি বাড়াতে হলে আগে কিছু পড়ার অভ্যাস বদলাতে হবে।
বিশিষ্ট স্পিড রিডার টিম ফেরিস প্রযুক্তি ছাড়া দ্রুত পড়ার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি শেখান। তিনি বলেন, রিগ্রেশন বন্ধ করতে হবে—মানে এক লাইন বা প্যারাগ্রাফ বারবার পড়া। এতে গতি কমে যায়। পার্শ্বদৃষ্টি বাড়াতে হবে, পৃষ্ঠার প্রতিটি শব্দের বদলে মূল শব্দগুলো পড়ার অভ্যাস গড়তে হবে।
দ্রুত পড়ার জন্য কয়েকটি সহজ কৌশলই যথেষ্ট, নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।
কৌশল ১- অন্তর্দ্বনি কমান
পড়ার সময় অনেকের মাথায় যেন একটা ভয়েস বাজতে থাকে, এটিই সাবভোকালাইজেশন বা অন্তর্দ্বনি।
শৈশবের পড়ার অভ্যাস থেকেই আমরা শব্দ ধরে ধরে বলি। তখন শিক্ষকরা উচ্চস্বরে পড়তে বলেন, এতে বোঝার ক্ষমতা বাড়ে। পরে চুপচাপ পড়তে বলা হয়, তখনই অন্তর্দ্বনি তৈরি হয়।
দ্রুত পড়তে চাইলে এই অন্তর্দ্বনি বা সাবভোকালাইজেশন যতটা পারা যায় কমাতে হবে। পুরোপুরি থামানো না গেলেও কমানোর কিছু কৌশল আছে।
ধরুন, পড়ার সময় ইন্সট্রুমেন্টাল সঙ্গীত শুনতে পারেন, কিন্তু কথা বা জোরালো তালওয়ালা গান নয়; এতে মনোযোগ বাড়বে আর অন্তর্দ্বনি কমবে। ক্লাসিকাল মিউজিক এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো।
অনেকে নীরবে পড়লেও ঠোঁট নাড়িয়ে পড়েন, যাকে ভোকালাইজেশন বলে। দ্রুত পড়তে চাইলে এই অভ্যাসও ছাড়তে হবে।
কৌশল ২- শব্দের দল গঠন
আমরা সাধারণত একেকটি শব্দ ধরে পড়ি, এতে গতি কমে যায়। বরং শব্দের দল বা বাক্যের মূল শব্দগুলো দ্রুত ধরার চেষ্টা করতে হবে। উদাহরণ: “The cow jumped over the moon” বাক্যটি যদি “cow jumped over moon” গ্রুপে পড়েন, তবুও মূল কথা স্পষ্ট থাকে। কেবল মূল শব্দে ফোকাস করলেই বোঝা যায়।
এই কৌশলটি নিয়মিত অনুশীলন করলে পড়ার সময় অনেক কমে যাবে।
কৌশল ৩- পার্শ্বদৃষ্টি ব্যবহার
তৃতীয় কৌশল হলো পার্শ্বদৃষ্টি ব্যবহার করা; এতে আপনি ধীরপাঠক থেকে দ্রুতপাঠকে রূপ নিতে পারেন।
এতে চোখের একটু ভিন্ন ধরনের নড়াচড়ার প্রয়োজন হয়।
সাধারণ পড়ায় চোখ বাম থেকে ডানে চলাচল করে। কিন্তু দ্রুত পড়ার জন্য লাইনের মাঝ বরাবর একটি শব্দে চোখ রাখুন, আর পার্শ্বদৃষ্টি দিয়ে বাকিটা পড়ুন।
শুরুতে অভ্যস্ত হতে সময় লাগতে পারে, তবে শব্দের দল গঠনের কৌশলের সঙ্গে একসঙ্গে অনুশীলন করলে খুব ভালো ফল দেবে।
দ্রুত পড়তে সাহায্যকারী প্রযুক্তি
এই কৌশলগুলো ছাড়াও, দ্রুত পড়ার জন্য নানা টুল ও প্রযুক্তি আছে। অ্যান্ড্রয়েডে Speed Reading ও Spreeder অ্যাপ পাওয়া যায়, Spreeder আবার ios-এও আছে।
Focus-Speed Reading ও OutRead App-ও ios-এ পাওয়া যায়।
দ্রুত পড়ার দক্ষতা তৈরি করতে সময় লাগে। দ্রুত কনটেন্ট নিতে চাইলে টেক্সট-টু-স্পীচ প্রযুক্তি দারুণ কাজ করে। এতে বোঝাপড়াও ভালো হয়।
টেক্সট-টু-স্পীচ সফটওয়্যারে পড়া নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধা আছে—বাক্য, শব্দ বা অনুচ্ছেদ ধরে পড়ার গতি ঠিক করা যায়। পড়তে পড়তে শুনতে পারেন, চাইলে শুধু শুনতেও পারেন।
Speechify দারুণ একটি টেক্সট-টু-স্পীচ অ্যাপ; এটি দ্রুত কনটেন্ট নেওয়া ও পড়ার সময় বাঁচাতে সাহায্য করে।
টেক্সট-টু-স্পীচ প্রযুক্তির সুবিধা হলো বোঝাপড়া ও মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। আর, দ্রুত পড়ার কৌশল শিখতে আলাদা করে সময়ও দিতে হয় না।
Speechify দিয়ে পড়া একসঙ্গে সহজ ও বহুমুখী হয়। Audible থেকে যেকোনো বই ইমপোর্ট করে Speechify-তে শুনতে পারেন। Speechify রয়েছে ios, Android এবং Google Chrome ব্রাউজার প্লাগইন আকারেও।
Audible অ্যাকাউন্ট না থাকলেও, Speechify-তে যেকোনো ইবুক, ব্লগপোস্ট বা নিবন্ধ শুনতে/পড়তে পারবেন।
Speechify দিয়ে ছাপানো বইও পড়া যায়। কেবল স্ক্যান করুন, আর সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল ফরম্যাটে শুনতে বা পড়তে পারবেন।
Speechify-এ, প্রায় সবকিছুই অডিওবুকের মতো হয়ে যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
এক দিনে ৪০০ পৃষ্ঠা পড়া সম্ভব?
গড়ে একজন পাঠকের ৪০০ পৃষ্ঠা পড়তে প্রায় ১১ ঘণ্টা লাগে। দিনে ৪০০ পৃষ্ঠা পড়তে চাইলে স্পিচিফাইয়ের মতো টেক্সট-টু-স্পীচ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে পড়ার গতি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বোঝাপড়া না হারিয়ে দ্রুত কীভাবে পড়বো?
বাক্যের শব্দগুলো একত্রে ধরে মূল শব্দে মনোযোগ দিন, এতে পুরো বাক্য না পড়েও অর্থ বোঝা সম্ভব।

