জন স্টেইনবেকের সেরা বইগুলো
জন স্টেইনবেক ২০-শ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী লেখক, যিনি গ্রেট ডিপ্রেশন ও ওকলাহোমা ডাস্ট বোল যুগের জীবনের তীক্ষ্ণ ছবি এঁকেছেন। তাঁর রচনায় সেই সময়ের সংগ্রামী মানুষের জীবনের অন্তর্দৃষ্টি মেলে। তাঁর উপন্যাসগুলো দারিদ্র্য, বর্ণবাদ, প্রান্তিকতা ও ন্যায়বিচারের মতো বিষয় গভীরভাবে অনুসন্ধান করে এবং অনবদ্য সাহিত্যে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু আসলে কে এই জন স্টেইনবেক?
এই লেখায় আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক জন স্টেইনবেকের জীবন ও তাঁর উল্লেখযোগ্য কর্মসমূহ এক ঝলকে দেখা হয়েছে।
The Grapes of Wrath থেকে The Red Pony—দেখব কেন স্টেইনবেকের কাজ আজও এত প্রাসঙ্গিক।
জন স্টেইনবেকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
জন স্টেইনবেক মার্কিন লেখক, যিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সালিনাস ভ্যালিকে কেন্দ্র করে উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি পান। এদের মধ্যে রয়েছে The Grapes of Wrath, In Dubious Battle, Of Mice and Men, Cannery Row, East of Eden এবং The Pearl। আরও আছে Burning Bright, The Red Pony, To a God Unknown ও The Pastures of Heaven। সিনেমার জন্যও তিনি The Wayward Bus (১৯৪৭) ও Viva Zapata! (১৯৫২)–এর স্ক্রিপ্ট লিখেছেন।
স্টেইনবেক ১৯০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সালিনাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা জন আর্নস্ট স্টেইনবেকও লেখালেখি করতেন এবং মা অলিভ হ্যামিলটন ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা। ১৯১৯ সালে সালিনাস হাই স্কুলে পড়েন, তারপর স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। তবে ডিগ্রি শেষ না করেই লেখক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমান।
স্টেইনবেকের তিনটি বিয়ে হয়। প্রথম স্ত্রী ক্যারল হেনিং, যাকে ১৯২৯ সালে লেক তাহোয়েতে পরিচয় হওয়ার এক বছর পর বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী গুইন্ডোলিন কনগারকে ১৯৪১ সালে, তৃতীয় স্ত্রী ইলেন স্কট অ্যান্ডারসনকে ১৯৫০ সালে বিয়ে করেন। ক্যারল হেনিংয়ের সাথে তাঁর দুই ছেলে—টমাস ও জন জুনিয়র—হয়, তবে ১৯৪১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। গুইন্ডোলিন কনগারের আগের সম্পর্ক থেকে ওয়েভারলি স্কট নামে এক মেয়ে ছিল।
জীবনে তিনি ৩০টির বেশি বই লিখেছেন এবং সংসার চালাতে প্রয়োজনে ম্যানুয়াল শ্রমিকের কাজও করেছেন। সংবাদপত্রে রিপোর্টার এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধ-সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন।
লেখালেখির শুরু থেকেই স্টেইনবেক নানা পুরস্কারে সম্মানিত হন। ১৯৪০-এ The Grapes of Wrath-এর জন্য পুলিৎজার পান এবং সামাজিক ইস্যু নিয়ে লেখার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬২-তে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ডসহ বহু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি পান।
এসব কৃতিত্বের পাশাপাশি, তিনি তিনবার একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পান। আরও বিভিন্ন দেশের সরকারি পদকও লাভ করেন, যেমন মেক্সিকোর Order of the Aztec Eagle (১৯৬৪) ও ইতালির Ordine della Corona di Ferro (১৯৬৩)।
বইয়ের গবেষণার জন্য তিনি মাঝেমধ্যে মেক্সিকান খামার শ্রমিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতেন। একবার সোলেদাদ, ক্যালিফোর্নিয়ার এক মুরগির খামারেও চাকরি করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শ্রমিকদের জীবন সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি দেয়, যা তিনি Of Mice and Men (১৯৩৭) এবং The Grapes of Wrath (১৯৩৯)-এ তুলে ধরেছেন।
যদিও স্টেইনবেকের রচনার প্রেরণা এসেছে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে, তবু সুমুদ্রবিজ্ঞানী এড রিকেটসের অবদানও ছিল বড়। এড তাঁকে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে শিখিয়েছিলেন; তারই ফলস্বরূপ তিনি The Log from the Sea of Cortez (১৯৪১)সহ বেশ কয়েকটি বই লেখেন।
স্টেইনবেকের শেষ উপন্যাস The Winter of Our Discontent ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ঠিক এক বছর আগে।
প্রথম উপন্যাস Tortilla Flat (মন্টেরির পাইজানোদের জীবনের হাস্যরসাত্মক কাহিনি) প্রকাশের পর থেকেই স্টেইনবেকের প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সমালোচকরা তাঁর কিছু কাজকে "২০-শ শতাব্দীর সেরা সাহিত্য" বলা যায় কি না তা নিয়ে বিতর্ক করেছেন, তবু তাঁর স্থায়ী উত্তরাধিকার নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।
লেখকের উল্লেখযোগ্য কাজ
Of Mice and Men
গ্রেট ডিপ্রেশন যুগের প্রেক্ষাপটে এই উপন্যাসে স্টেইনবেক ভাগ্যপীড়িত দুই অভিবাসী শ্রমিক—জর্জ ও লেনির দুঃসহ পথচলার গল্প বলেছেন।
তাদের বন্ধুত্ব জীবনের অনিশ্চয়তার মুখে বারবার পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। স্টেইনবেক মানুষের ক্ষমতা, আনুগত্য, সহানুভূতি ও ন্যায়বোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
The Grapes of Wrath
পুলিৎজার বিজয়ী এই উপন্যাসে দেখা যায়, আমেরিকার ডাস্ট বোলের সময় অর্থনৈতিক মন্দা সাধারণ মানুষের জীবন কতটা ওলটপালট করে দিয়েছিল। কাহিনির কেন্দ্র জোড পরিবার, যারা খরা ও ব্যাংকের দখল নীতির কারণে ওকলাহোমা ছেড়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন জীবনের খোঁজে পাড়ি দেয়। তাদের দৃঢ়তা ও লড়াই অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
East of Eden
এই চিরন্তন ক্লাসিকে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ছোট শহরকে ঘিরে দুই পরিবারের আখ্যান বোনা হয়েছে। স্টেইনবেক দক্ষ হাতে পরিচয়, নৈতিকতা ও পছন্দের পরিণতি নিয়ে লিখেছেন। বিভিন্ন চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি মানবস্বভাবের জটিলতা ও ঈশ্বরের সাথে মানুষের সম্পর্ক অনুসন্ধান করেন।
উপন্যাসের জীবন্ত, চিত্রময় বর্ণনা পাঠককে যেন আরেক জগতে টেনে নিয়ে যায়।
সম্মানজনক উল্লেখ
- Travels with Charley: in Search of America (১৯৬২)
- The Long Valley (১৯৩৮)
- The Moon is Down (১৯৪২)
- Sweet Thursday (১৯৫৪)
- Cup of Gold (১৯২৯)
স্পিচিফাই-তে সাহিত্যিক ক্লাসিক শুনুন
Speechify Audiobooks বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অডিওবুক সেবা; এখানে আছে অগণিত শিরোনামের লাইব্রেরি—কালজয়ী ক্লাসিক থেকে নোবেলজয়ী কৃতিত্ব পর্যন্ত।
Speechify-এ আপনার প্রিয় অডিওবুক যেকোনো জায়গায়, যেকোনো সময় শুনতে পারবেন। সহজ এই অ্যাপে পছন্দের বই খুঁজুন, সংরক্ষণ করুন এবং উচ্চমানের অডিওতে উপভোগ করুন।
আপনি স্পিড ও প্লেব্যাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, যাতে আপনার শোনার অভিজ্ঞতা একেবারে মনমতো হয়।
Speechify-এর শিরোনাম সংগ্রহ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। উদ্দীপক নন-ফিকশন থেকে মনকাড়া ফিকশন—আজই Speechify লাইব্রেরি ঘুরে দেখুন এবং অডিওবুকের মুগ্ধ জগৎ আবিষ্কার করুন।
প্রশ্নোত্তর
জন স্টেইনবেকের মৃত্যুর কারণ কী?
জন স্টেইনবেক হার্ট ফেলিওরে মারা যান।
জন স্টেইনবেকের সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস কোনটি?
The Grapes of Wrath জন স্টেইনবেকের সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস।

