স্যামসাং গ্যালাক্সিতে টেক্সট টু স্পিচ চালু করলে ফোন ব্যবহার অনেক সহজ হয়ে যায়—আপনার পছন্দের কনটেন্ট, মেসেজ আর অ্যাপে হাত না লাগিয়েই ব্যবহার করতে পারবেন। এই গাইডে আমরা ধাপে ধাপে দেখাবো কীভাবে টেক্সট টু স্পিচ চালু করে আরামে ব্যবহার করবেন।
স্যামসাং গ্যালাক্সি ও অ্যান্ড্রয়েডে টিটিএস চালুর বিভিন্ন উপায়
যারা টেক্সট টু স্পিচ ফিচারের ওপর নির্ভর করেন, তারা অ্যান্ড্রয়েডে বিভিন্নভাবে এটি চালু করতে পারেন। যেমন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে লিখা শোনাতে পারেন, বা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন প্লে-স্টোর থেকে। পাশাপাশি স্যামসাং গ্যালাক্সিতে গুগলের বিল্ট-ইন টিটিএস টুলও আছে।
সবগুলো উপায়ই কার্যকর, তবে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে সবচেয়ে ভালো দুটি টেক্সট টু স্পিচ অপশন হলো গুগল টেক্সট টু স্পিচ আর স্পিচিফাই।
গুগল টেক্সট টু স্পিচ
প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনেই আছে সহজে ব্যবহারযোগ্য নেটিভ টিটিএস ফিচার। মূলত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের জন্য বানানো হলেও, চাইলে ফোনের প্রায় যেকোনো টেক্সট পড়ে শোনাতে এই ফিচার ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যান্ড্রয়েডে গুগল টেক্সট টু স্পিচ চালু করতে করণীয়:
- হোমস্ক্রিন থেকে গিয়ার আইকনে চাপ দিয়ে “সেটিংস” খুলুন।
- “অ্যাক্সেসিবিলিটি” অপশন খুঁজুন।
- “টেক্সট টু স্পিচ” অপশন সিলেক্ট করুন।
- “গুগল টেক্সট টু স্পিচ” নির্বাচন করুন।
- আইকনের পাশে গিয়ার আইকনে চাপ দিন – সেটিংস বদলাতে (যেমন পিচ, স্পিচ রেট)।
- আবার “অ্যাক্সেসিবিলিটি সেটিংস”-এ ফিরে “সিলেক্ট টু স্পিক” চালু করুন।
স্পিচিফাই
স্পিচিফাই হলো মাল্টি-প্লাটফর্ম টিটিএস অ্যাপ—আইফোন, অ্যান্ড্রয়েড দুটোতেই চলে। অ্যান্ড্রয়েডে সেটআপ একদম সহজ। কীভাবে সেট করবেন:
- স্পিচিফাই অ্যাপ ডাউনলোড করুন গুগল প্লে-স্টোর থেকে ফ্রিতে।
- স্ক্রিনে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন, নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করুন।
- পছন্দের এআই ভয়েস বেছে নিন টেক্সট টু স্পিচ আউটপুটের জন্য।
- “Continue” চাপ দিন, অ্যাপ ব্যবহার শুরু করুন।
কীভাবে গুগল টেক্সট টু স্পিচ অ্যান্ড্রয়েডে ব্যবহার করবেন
গুগল টিটিএস চালু হলে স্ক্রিনের নিচে ডান পাশে একটা গোল মানুষের আইকন দেখাবে। এটি যেভাবে কাজ করে:
- যে কনটেন্ট পড়তে চান সেটাতে যান।
- আইকনে চাপ দিন, নীল হলে একটু অপেক্ষা করুন।
- যে টেক্সট শুনতে চান, সেটি সিলেক্ট করুন।
গুগল টিটিএস দিয়ে মেসেজ ও আরও পড়ুন
অ্যান্ড্রয়েডে গুগল টিটিএস-এর নানা ব্যবহার আছে। সাধারণত মেসেজ, নিউজ, আর্টিকেল ইত্যাদি পড়ার জন্যই বেশি ব্যবহার হয়।
জানার মতো
গুগল টিটিএস গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মতোই, তবে আরও বেশি টেক্সট টু স্পিচ সুবিধা দেয়। যেমন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কেবল শেষ পাঁচটি মেসেজ পড়ে, আর টিটিএস আপনি যা সিলেক্ট করবেন ঠিক সেটাই পড়ে শোনায়।
তবে গুগল টিটিএস-এর ভয়েস খুব একটা স্বাভাবিক শোনায় না, বেশ Robot-এর মতো লাগে।
স্পিচিফাই টিটিএস কিভাবে ব্যবহার করবেন অ্যান্ড্রয়েডে
স্পিচিফাই অ্যাপ ব্যবহার ইনস্টল করার চেয়েও সহজ। শুরু করতে নিচের ডান কোণে নীল প্লাস আইকনে চাপ দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী যে অপশনগুলো পাবেন:
- নতুন ফোল্ডার — এক ধরনের অনেকগুলো ফাইল একসাথে রাখতে
- স্ক্যান পেজ — ছবি থেকে শোনার মতো ফাইলে রূপান্তর করতে
- পেস্ট টেক্সট — মেসেজ, ইমেইল ইত্যাদি পড়ার জন্য
- ইমপোর্ট ফাইল — গুগল ড্রাইভ/মেমোরি থেকে ফাইল আনতে
- ওয়েব লিঙ্ক পেস্ট — অনলাইন আর্টিকেল পড়ার জন্য
স্পিচিফাই দিয়ে ওয়েব পেজ ও আরও অনেক কিছু পড়ুন
এতগুলো অপশন থাকার কারণে প্রায় সব ধরনের টেক্সটই স্পিচিফাই দিয়ে শোনা যায়। জনপ্রিয় কিছু ব্যবহার:
- অডিওবুক
- শিক্ষা উপকরণ
- ম্যানুয়াল ও টিউটোরিয়াল
- ওয়েব পেজ
- মেসেজ
- ইমেইল
জানার মতো
বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট শোনার সুযোগ ছাড়াও, স্পিচিফাই আপনাকে অনেক কাস্টমাইজেশন অপশন দেয়, যেমন:
- পড়ার গতি বাড়ানো বা কমানো
- শোনার সময় বাক্য হাইলাইট করা
- কাজ অনুযায়ী ভয়েস বদলে নেওয়া
এর পাশাপাশি, ভয়েস টাইপিং টুলের সঙ্গে স্পিচিফাই একসাথে ব্যবহার করলে অ্যাক্সেসিবিলিটি আরও বাড়বে। যেমন, ভয়েস টু টেক্সট অ্যাপ দিয়ে ডিক্টেশন করে পরে স্পিচিফাই দিয়ে প্রুফরিড করতে পারেন।
গুগল টিটিএস বনাম স্পিচিফাই: কোনটি ভালো?
স্যামসাং গ্যালাক্সির মতো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে টিটিএস-এর ক্ষেত্রে স্পিচিফাই গুগল টিটিএস থেকে এগিয়ে। দুইটিই কাজের, তবে কিছু দিক থেকে স্পিচিফাই অনেক ভালো অভিজ্ঞতা দেয়।
প্রথমত, স্পিচিফাই আরও স্বাভাবিক-শোনার ভয়েস ব্যবহার করে, ফলে শুনতে আরামদায়ক লাগে। কনটেন্ট বুঝতেও সহজ হয়, আর এআই ভয়েসগুলো এতটাই স্বাভাবিক যে মনে হবে যেন পডকাস্ট শুনছেন। ভয়েস কাস্টমাইজও করা যায়—পুরুষ/মহিলা, উচ্চারণ, গতি ইত্যাদি অনুযায়ী। স্পিচিফাই ৩০+ ভাষাতেও সাপোর্ট করে।
একটি স্পিচিফাই অ্যাকাউন্ট একসাথে একাধিক ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ওসিআর ফিচার দিয়ে ছবি তুলে সেখানকার টেক্সটও পড়ে শোনানো সম্ভব।
আজই বিনামূল্যে স্পিচিফাই ব্যবহার করে দেখুন, বুঝে নিন কেন এটি স্যামসাং গ্যালাক্সির জন্য সেরা টিটিএস অপশন।
প্রশ্নোত্তর
স্যামসাং গ্যালাক্সিতে কি স্পিচ টু টেক্সট রয়েছে?
অধিকাংশ স্যামসাং ডিভাইসের মতো গ্যালাক্সিতেও ইনবিল্ট স্পিচ টু টেক্সট ফিচার “বিক্সবি” আছে। এখানে ভয়েস কমান্ডও দেওয়া যায়, ঠিক যেমন অ্যাপলে সিরির মতো।
স্যামসাং টেক্সট রিডার কিভাবে ব্যবহার করবেন?
স্যামসাং টকব্যাক, আগে যেটা ‘টেক্সট রিডার’ নামে পরিচিত ছিল, এমন একটি ফিচার যা ফোন ব্যবহারের সময় আপনাকে সবকিছু মুখে বলে জানায়।
স্যামসাং টেক্সট টু স্পিচ কীভাবে ইনস্টল করবেন?
স্যামসাং টিটিএস হলো নেটিভ ফিচার, আলাদা করে ইনস্টল করতে হয় না—অ্যাক্সেসিবিলিটি মেনু থেকে এটি চালু করা যায়।
স্যামসাং টেক্সট টু স্পিচ কী?
স্যামসাং টিটিএস একটি সিস্টেম অ্যাপ, যা যেকোনো লেখা ভয়েসে রূপান্তর করতে পারে।
স্যামসাং টেক্সট টু স্পিচ ও স্যামসাং টেক্সট রিডার-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
স্যামসাং টেক্সট রিডার মূলত যারা ফোন ব্যবহার করতে সহায়তা চান তাদের জন্য। অন্যদিকে, টিটিএস টেক্সটকে সরাসরি ভয়েস বা অডিও ফাইলে রূপ দেয়।
স্যামসাং গ্যালাক্সিতে টেক্সট টু স্পিচ কীভাবে চালু করবেন?
স্যামসাং গ্যালাক্সিতে টিটিএস চালু করতে “অ্যাক্সেসিবিলিটি” মেনুতে গিয়ে প্রাসঙ্গিক সেটিং অন করুন।
স্যামসাং টেক্সট রিডার ও গুগল স্পিচ টু টেক্সট-এর পার্থক্য কী?
দুটি ফিচারই ফোন ব্যবহার অনেক সহজ করে। তবে গুগলের এসটিটিটি (STT) ভয়েস ইনপুট থেকে লেখা বানায়, আর স্যামসাং রিডার সেই লেখাকে পড়ে শোনায়।
স্যামসাং টেক্সট টু স্পিচ চালু করার ধাপগুলো কী?
স্যামসাং টিটিএস চালু করবেন যেভাবে:
- স্ক্রিনে ওপর থেকে নিচে সোয়াইপ করে কুইক মেনু খুলুন।
- “সেটিংস” সিলেক্ট করুন।
- “জেনারেল ম্যানেজমেন্ট”-এ যান।
- “টেক্সট টু স্পিচ” চাপুন।
- “Preferred engine” নির্বাচন করুন।
- স্যামসাং টেক্সট টু স্পিচ ইঞ্জিন সিলেক্ট করা আছে কিনা দেখুন।
- পাশের গিয়ার আইকনে চাপ দিন।
- “Install voice data”-এ চাপ দিন।
- আপনার পছন্দের ভাষা বেছে নিন।

