লর্ড অব দ্য রিংস বইগুলো সর্বকালের অন্যতম বেস্টসেলার সিরিজ। লেখক জে. আর. আর. টলকিন এক সম্পূর্ণ কল্পিত, বিস্তৃত জগৎ গড়ে তুলেছেন, যা সেই সময়ের সাহিত্যে ছিল খুবই বিরল। টানটান সব চরিত্র,善-অশুভর চিরন্তন দ্বন্দ্ব আর শক্তিশালী গল্প বলার ভঙ্গির জন্য অনেক পাঠকই যেন মধ্য-পৃথিবী ছেড়ে আসতে চান না।
পড়ার বদলে এসব কিংবদন্তি উপন্যাস শোনা এক ভীষণ বিশেষ শ্রবণ অভিজ্ঞতা দেয়। সব লর্ড অব দ্য রিংস অডিওবুক শোনার উপায় জানতে পড়তে থাকুন।
‘লর্ড অব দ্য রিংস’ সিরিজে কোন কোন বই আছে?
অনেকে লর্ড অব দ্য রিংস ট্রিলজি নামেই সিরিজটাকে চেনেন। কারণ, প্রথমে এই তিনটি বই নিয়েই চলচ্চিত্র বানানো হয়। পিটার জ্যাকসনের পরিচালিত, পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো ছিল বক্স অফিসে দারুণ সফল, আর সমালোচকরাও ঝরিয়ে দেন প্রশংসা।
তবে, টলকিন তার মধ্য-পৃথিবীর গল্প শুরু করেছিলেন “হবিট” বই দিয়ে। পাশাপাশি এই জগত ঘিরে আরও কিছু কল্পবহুল বই আছে, যেখানে মধ্য-পৃথিবীর ইতিহাস, আগের যুগের ঘটনা আর নতুন নতুন চরিত্র উঠে এসেছে।
চলুন, এক নজরে দেখে নি লর্ড অব দ্য রিংস সিরিজের সব বইয়ের নাম।
১. হবিট (১৯৩৭)
“হবিট” হলো লর্ড অব দ্য রিংস ট্রিলজির মূল কাহিনির প্রাককথন। এখানে হবিট বিলবো ব্যাগিন্স জাদুকর গ্যান্ডালফের সাথে মধ্য-পৃথিবীতে এক দুর্দান্ত অভিযানে বের হয়। পথে সে গলামের দেখা পায় আর এক রহস্যময় রিং পেয়ে যায়।
২. দ্য ফেলোশিপ অব দ্য রিং (১৯৫৪)
“লর্ড অব দ্য রিংস: দ্য ফেলোশিপ অব দ্য রিং” দিয়েই বিশ্বজুড়ে টলকিন-উন্মাদনার শুরু। এতে বিলবোর ভাইপো ফ্রোডো ব্যাগিন্স শান্তিতে ছিল শায়ারে; কিন্তু এখন এক রিংয়ের ভার এসে পড়ে তার ওপর। এরপর ফ্রোডোকে বাড়ি ছেড়ে ডার্ক লর্ড সৌরনের শাসিত মর্দোরের দিকে বিপজ্জনক যাত্রায় নামতে হয়। তার লক্ষ্য মাউন্ট ডুমে পৌঁছে রিং ধ্বংস করা।
৩. দ্য টু টাওয়ার্স (১৯৫৪)
“দ্য টু টাওয়ার্স” হলো ট্রিলজির দ্বিতীয় খণ্ড। এখানে ফ্রোডোর সাফল্য-ব্যর্থতার পরিণতি আর রিংয়ের লোভে ফেলোশিপে ভাঙন কীভাবে ধরে, তা উঠে এসেছে।
৪. দ্য রিটার্ন অব দ্য কিং (১৯৫৫)
“দ্য রিটার্ন অব দ্য কিং” ট্রিলজির শেষ ও মহাকাব্যিক সমাপ্তি। এখানে আবার ফেলোশিপ একত্র হয়ে ডার্ক লর্ডের অগণিত সৈন্যবাহিনীর মুখোমুখি হয়।
৫. দ্য সিলমারিলিয়ন (১৯৭৭)
“দ্য সিলমারিলিয়ন” “হবিট”-এরও বহু আগে, একেবারে বিশ্বের সৃষ্টির গল্প বলতে শুরু করে। এতে প্রথম যুগের ঘটনাবলি উঠে আসে, যেখানে এলরনড, গ্লাদ্রিয়েলের মতো পরিচিত চরিত্রও আছে।
৬. আনফিনিশড টেলস অব নুমেনর এবং মধ্য-পৃথিবী (১৯৮০)
এটি নানা গল্প আর নিবন্ধের সংকলন, যেখানে মধ্য-পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন স্থান ও যুগের ঘটনা উঠে এসেছে। এক গল্পে আছে গ্যান্ডালফের বিলবোর বিদায় পার্টিতে ডোয়ার্ভ পাঠানোর মজার কাহিনি।
৭. দ্য চিলড্রেন অব হুরিন (২০০৭)
“দ্য চিলড্রেন অব হুরিন” হলো মধ্য-পৃথিবীর প্রথম যুগের এক শোকাতুর কাহিনি, যেখানে ডার্ক লর্ড মর্গোথের বিরুদ্ধে চলা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ দেখা যায়।
৮. বেরেন ও লুথিয়েন (২০১৭)
এই সংকলন গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে মরণশীল মানুষ বেরেন ও অমর এলফ লুথিয়েনের অনন্য প্রেমকাহিনি।
৯. দ্য ফল অব গন্ডোলিন (২০১৮)
এ গল্পে গন্ডোলিন শহরের পতনের মর্মান্তিক কাহিনি আছে, যেখানে মর্গোথের বলরগ, ড্রাগন আর অগণিত অর্কের হামলায় শহরটি ধ্বংস হয়ে যায়।
কিভাবে ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ অডিওবুক শুনবেন
লর্ড অব দ্য রিংস অডিওবুক শোনার জন্য নিচের প্ল্যাটফর্মগুলোতে খুঁজে পেতে পারেন।
অডিবল
অ্যামাজনের অডিবল-এ মিলবে লর্ড অব দ্য রিংসের আনএব্রিজড অডিওবুক। রব ইংলিস নিজেই বইগুলো পড়েছেন, গান আর কবিতাগুলোও নিজের সুরে গেয়েছেন।
টোকি বুক
টোকি বুক-এ গলামের অভিনেতা অ্যান্ডি সারকিসের কণ্ঠে শুনতে পাবেন লর্ড অব দ্য রিংস ট্রিলজি। তার অভিনয়ধর্মী পাঠ শ্রোতাদের একদম মুগ্ধ করে রাখে।
রাকুটেন কোবো
রাকুটেন কোবো-তে পাবেন পূর্ণাঙ্গ কাস্টের পরিবেশনায় মধ্য-পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ। সংগীত ও সাউন্ড ইফেক্ট যোগ হওয়ায় অভিজ্ঞতা হয় আরও জীবন্ত।
অডিওবুক স্টোর
অডিওবুক স্টোর-এও অ্যান্ডি সারকিসের পড়া আনএব্রিজড সংস্করণ পাবেন। ড্রামাটাইজড, কম সময়ের অডিওবুকও রয়েছে ছোট অডিওবুক পছন্দকারীদের জন্য।
চার্প
চার্প-এ পাবেন লর্ড অব দ্য রিংস সম্পূর্ণ অডিওবুক সিরিজ। এখানে তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত, পূর্ণাঙ্গ কাস্ট পরিবেশনা শুনতে পারবেন।
স্পিচিফাই - বই শোনার এক নতুন টেক্সট-টু-স্পিচ অভিজ্ঞতা
২০২২ সালের 'দ্য রিংস অব পাওয়ার' টিভি সিরিজ আসার পর থেকে টলকিনের গল্পের চাহিদা আরও বেড়েই চলেছে। প্রিয় বইগুলো নতুনভাবে শুনে দেখতে চাইলে স্পিচিফাই ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
স্পিচিফাই একটি টেক্সট টু স্পিচ (TTS) অ্যাপ, যা প্রায় যেকোনো ইবুককে অডিওবুকে রূপান্তর করতে পারে। স্বাভাবিক শোনায় এমন নানা ধরনের কণ্ঠে, নিজের পছন্দমতো লর্ড অব দ্য রিংস শুনতে পারবেন। কণ্ঠ, পিচ আর স্পিড নিজের মতো করে বদলে নিন।
স্পিচিফাই-তে আছে অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR), যা বইয়ের মুদ্রিত টেক্সটকেও অডিও বানাতে পারে। মানে, কাগজের বইও যেন কানে শুনে “জীবন্ত” হয়ে উঠবে।
স্পিচিফাই দিয়ে আজই ফ্রি অ্যাপ ডাউনলোড করে অডিওবুকের অসাধারণ জগৎ ঘুরে দেখুন।
FAQ
লর্ড অব দ্য রিংস অডিওবুকের বর্ণনাকারী কে?
আপনি যেই সংস্করণ নিন, অডিওবুকের বর্ণনাকারী সাধারণত রব ইংলিস অথবা অ্যান্ডি সারকিসের একজন হবেন।
লর্ড অব দ্য রিংস অডিওবুক কয় ঘণ্টা?
লর্ড অব দ্য রিংস ট্রিলজির পূর্ণাঙ্গ অডিওবুক প্রায় ৫৪ ঘণ্টার। পাশের গল্পগুলো যোগ করলে আরও প্রায় ৭০ ঘণ্টা বাড়ে।
অডিবল-এ লর্ড অব দ্য রিংস কি ফ্রি?
আপনার অডিবল প্রিমিয়াম প্লাস সদস্যতা থাকলে লর্ড অব দ্য রিংস ফ্রি নিতে পারবেন। না থাকলে, ফ্রি ট্রায়াল ব্যবহার করে কিছু অংশ শুনে দেখতে পারবেন।
রব ইংলিস কি ভালো বর্ণনাকারী?
রব ইংলিস অসাধারণ বর্ণনাকারী; ভিন্ন ভিন্ন, বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তোলেন।
‘লর্ড অব দ্য রিংস’ কী নিয়ে?
লর্ড অব দ্য রিংস হলো একদল অপ্রত্যাশিত নায়কের রোমাঞ্চকর অভিযান, যারা জগৎকে রক্ষা করতে এক মহাশক্তিশালী রিং ধ্বংসের মিশনে বের হয়।
বই ও সিনেমার মধ্যে কী পার্থক্য?
বই ও সিনেমার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য ঘটনাপ্রবাহের কিছু জায়গায় কাটছাঁট, আর কিছু চরিত্রের বয়স ও ব্যক্তিত্বের উপস্থাপনায়।
‘লর্ড অব দ্য রিংস’-এর মূল থিম কী?
লর্ড অব দ্য রিংস-এ বন্ধুত্ব,善-অশুভর লড়াই, ক্ষমতার ভয়াবহ টান, মৃত্যু-অমরত্ব, নিয়তি বনাম স্বাধীন ইচ্ছা আর খ্রিষ্টীয় নানা প্রতীকি দিক উঠে এসেছে।
লর্ড অব দ্য রিংস কোন ভাষায় আছে?
টলকিন এই গল্প ইংরেজিতে লিখেছেন। পাশাপাশি মধ্য-পৃথিবীর বাসিন্দাদের জন্য তিনি নিজেই অনেক কৃত্রিম ভাষা ও উপভাষা সাজিয়ে তুলেছিলেন।

