ReadSpeaker কী?
ReadSpeaker একটি টেক্সট-টু-ভয়েস অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীদের পড়ার বদলে শোনার সুযোগ দেয়। অনেকেই ReadSpeaker-এর স্বাভাবিক শোনার মতো কণ্ঠ পছন্দ করেন, যা আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি। এর ভয়েস কোয়ালিটি বেশ ভালো, যা অনুরূপ অনেক অ্যাপে ততটা পাওয়া যায় না।
ব্যবহারকারীরা কেন ReadSpeaker TTS অ্যাপের বিকল্প চান
অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে দ্রুত তথ্য শোনার জন্য ReadSpeaker TTS অ্যাপ দেওয়া হয়। কিন্তু অনেকেরই এমন টেক্সট-টু-স্পিচ অ্যাপ দরকার, যা পড়া আরও সহজ করে— যাতে পড়তে পড়তে একটু বিশ্রাম নেওয়া যায়, বা জিমে থেকেও পড়ার বদলে শোনা যায়। তাই যারা লেখায় কম সময় দিয়ে বেশি শিখতে চান, তাদের জন্য আমরা ReadSpeaker-এর পাঁচটি বিকল্পের তালিকা করেছি।
পাঁচটি ReadSpeaker বিকল্প: সেরা TTS অ্যাপ বেছে নিন
১. Voice Dream
Voice Dream-এ আছে ২০০-র বেশি ভয়েস, স্বাভাবিক শোনার কণ্ঠে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ। পড়া মজার করতে বাড়তি কিছু চান? iOS 12-এ ৬০টিরও বেশি ফ্রি কণ্ঠ থেকে বেছে নিতে পারবেন। Voice Dream ৩০টি ভাষা সাপোর্ট করে, তাই পৃথিবীর নানা জায়গায় সবাই ব্যবহার করতে পারে। iOS ও Android— দুই প্ল্যাটফর্মেই Voice Dream আছে। Voice Dream-এর বড় সুবিধা হল: অফলাইনে থাকলেও কাজ চলে। ব্যবহারকারীরা ফাইল আপলোড করে যে কোনো সময় শুনতে পারেন, ইন্টারনেট ছাড়াই। ফাইল নেওয়া যায় iOS ফাইল ব্রাউজার, স্ক্যানার, Dropbox, iCloud, Bookshare, Google Drive ও Gutenberg থেকেও। ভাবছেন, Voice Dream-এর চেয়ে ভালো অপশন আছে?
২. Read Aloud TTS Chrome Extension
এই Chrome extension-এ নানা ভয়েস থেকে বেছে নেওয়া যায়, আর সহজেই Google Docs, EPUB-সহ বিভিন্ন গুগল প্ল্যাটফর্মে কাজ করে। এটি ৪০টির বেশি ভাষায় তথ্য শোনার সুযোগ দেয়, তাই ভাষা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হয় না। Read Aloud শুধু ডকুমেন্টকে অডিওতে রূপান্তরেই সীমাবদ্ধ নয়— ওয়েবসাইট, ব্লগ, স্কুলের সাইটের টেক্সটও অডিওতে পড়ে শোনায়। Google ব্যবহারকারীদের জন্য এই Chrome এক্সটেনশন ReadSpeaker থেকে Canvas/Blackboard পড়ার ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক হতে পারে। কিবোর্ড শর্টকাট দিয়ে টেক্সটে নেভিগেট, পিচ, গতি ও ভয়েস সবই বদলানো যায়। এক্সটেনশনটা ইনস্টল করে দেখুন, আর আপনার জন্য মানানসই কণ্ঠ আর স্পিড ঠিক করে নিন। চাইলে দেখে নিন Read Aloud-এর ৫টি বিকল্প
৩. Speech Central
কাজের গতি বাড়াতে Speech Central ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ইন্টারফেসটা সহজ, বাড়তি ঝামেলাজনক ফিচার নেই— প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সেরে দেয়। রিয়েলটাইমে টেক্সট-টু-স্পিচ হয়, তাই আগে থেকে ফাইল আপলোড করার ঝামেলা নেই। পড়ার হিস্ট্রি সংরক্ষিত থাকে, ফলে বারবার পুরনো সোর্স খুঁজতে হয় না। Speech Central iOS, Windows, Android ও macOS-এ চলে— অফিসে PC আর বাসায় Mac সহ একাধিক ডিভাইসে একসাথে ব্যবহার করতে পারবেন।
৪. TextAloud
একদম সিম্পল, ঝামেলাহীন অ্যাপ চাইলে TextAloud-ই যথেষ্ট। এটি ডকুমেন্ট, .pdf ও ওয়েবসাইট খুব সহজে স্বাভাবিক কণ্ঠে পড়ে শোনায়— চাইলে আরামে বসে শুধু অডিও শুনতে পারেন। পাঠের গতি, টেক্সট সাইজ, ফন্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড সবই বদলানো যায়। যারা শোনা আর দেখাকে মিলিয়ে শিখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি প্রতি লাইন পড়ার সাথে সাথে টেক্সট হাইলাইটও করে, ফলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
৫. Speechify
Speechify সবই পারে, বরং আরও সুবিধা দেয়। ইমেইল, pdf, বা লম্বা ডকুমেন্ট শুনে নিতে চান? Speechify দ্রুত তথ্য পেতে সাহায্য করে। এটি প্রতি মিনিটে ৬০০ শব্দ পড়তে পারে— যা সাধারণের চেয়ে প্রায় ৯ গুণ দ্রুত। বেশি পড়া-শোনা বুঝতে ও মনে রাখতে সাহায্য করে, সময়ও বাঁচায়। Speechify ব্যবহারকারীরা অডিও ফাইল লাইব্রেরিতে রেখে সব ডিভাইসেই শুনতে পারেন। Android ও iOS— দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যায়, তাই কারোরই বাধা নেই। আরেকটা দারুণ ফিচার: ব্যবহারকারী প্রিন্টেড পৃষ্ঠার ছবি তুললে, অ্যাপ সেটাকে অডিও ফাইলে রূপান্তর করে শোনায়। Speechify ফ্রি ট্রাই করুন, আজই!

