ব্রেভ-এ টেক্সট টু স্পিচ
ব্রেভ ইন্টারনেট ব্রাউজার দিয়ে ব্যবহারকারীরা ওয়েব ব্রাউজিংয়ে বেশি প্রাইভেসি পান। এই ব্রাউজার ভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা ট্র্যাকিং কুকিজ ও ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন ছাড়াই চলে।
সাম্প্রতিক বছরে ব্রেভ খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। এই লেখায় কেন তা হয়েছে এবং স্ক্রিন রিডার প্রযুক্তির সাথে ব্রাউজারের সামঞ্জস্যতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ব্রেভ কী?
ব্রেভ হলো বিকল্প ওয়েব ব্রাউজার, যা মজিলার ফায়ারফক্স নির্মাতাদের একজন তৈরি করেছেন। এটি ওপেন-সোর্স এবং বিজ্ঞাপন দেখানোর এক নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে।
ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ট্র্যাকিং কুকিজের পরিবর্তে, ব্রেভ নিজস্ব বিজ্ঞাপন দেখায়।
এই সুবিধা গুগল ক্রোম, মাইক্রোসফট এজ, ও অন্যান্য ক্রোমিয়াম-ভিত্তিক ব্রাউজার থেকে বেশ আলাদা। ঐসব ব্রাউজার ব্যবহারকারীর ওয়েব পেজ ভিজিট করার সময় প্রচুর ডেটা সংগ্রহ করে। ব্রাউজারগুলো এই ডেটা বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগত কনটেন্ট দেখাতে ব্যবহার করে, যা অনেকেই প্রাইভেসি লঙ্ঘন মনে করেন।
ব্রেভকে ওয়েব ব্রাউজিংয়ের আরও নিরাপদ উপায় হিসেবে ভাবতে পারেন। পাশাপাশি, এটি কিছু অতিরিক্ত সুবিধাও দেয়:
- ব্রেভ ফায়ারফক্স, ক্রোম, এজ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত দ্রুত।
- আপনি অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ব্রেভ ডাউনলোড করতে পারেন।
- ব্যবহারকারীরা সহজেই অন্য ব্রাউজার থেকে বুকমার্ক, পাসওয়ার্ড ও এক্সটেনশন আমদানি করতে পারেন।
- কম বিজ্ঞাপন দেখানোর কারণে মোবাইল ডেটা বাঁচে।
- ব্রেভ-এ দ্রুত নেভিগেশনের জন্য অনেক কিবোর্ড শর্টকাট রয়েছে।
ব্রেভ নিয়ে আগ্রহী হলে, আপনি এটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারেন।
ব্রেভ নিয়ে মতামত
ব্রেভ নিয়ে নানা ধরনের মত আছে, তাই অনেকে ব্রাউজারটি ব্যবহার করতে গিয়ে একটু দ্বিধায় পড়েন।
ইতিবাচক দিক হলো, ব্রেভ অন্যান্য ব্রাউজারের চেয়ে অনেক কম তথ্য সংগ্রহ করে। এতে বিজ্ঞাপন ও পপ-আপ কম আসে, ব্রাউজিংও দ্রুত ও নিরাপদ হয়।
তবে কিছু নেতিবাচক দিকও আছে।
ব্রেভের ড্যাশবোর্ড কিছুটা জটিল ও স্প্যামি লাগে। আবার, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিজ্ঞাপনের কারণে অনেকে সন্দিহান থাকেন, বিশেষত ক্রিপ্টো প্রাইভেসি নিয়ে।
দুঃখজনকভাবে, ব্রেভের আপডেট খুব কম আসে। এতে ব্যবহারকারীরা আধুনিক ওয়েব প্রযুক্তি মিস করতে পারেন, যা অন্য ব্রাউজারে পাওয়া যায়।
ফলে, অন্য ব্রাউজারের মতো পূর্ণ ওয়েব অভিজ্ঞতা নাও পেতে পারেন। তারপরও, প্রাইভেসি নিয়ে ব্রেভের ভাবনা তথ্যনির্ভর বিশ্বে বেশ আকর্ষণীয়।
টেক্সট টু স্পিচ (TTS) কী?
টেক্সট টু স্পিচ সফটওয়্যার ডিজিটাল টেক্সট পড়তে সহায়ক প্রযুক্তি। এটি টেক্সট উচ্চারণ করে, ফলে ব্যবহারকারীকে নিজে পড়তে হয় না। ডিসলেক্সিয়া বা দৃষ্টি সমস্যা থাকা ব্যক্তিরা এই প্রযুক্তির শব্দগত সহায়তাকে অমূল্য হিসেবে দেখেন।
অনেক TTS প্ল্যাটফর্মে নানা স্পিচ ফিচার থাকে। যেমন, প্ল্যাটফর্মের ডিফল্ট কণ্ঠ পছন্দ না হলে, ভয়েস পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। কিছু প্ল্যাটফর্ম অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR) ব্যবহার করে স্ক্রিনশট নিয়ে ফিজিক্যাল টেক্সটকে ডিজিটাল রূপান্তর করে পড়ে শোনাতে পারে।
আপনি যে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন, তার উপর নির্ভর করে ফিচার ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে, যে কোনো লেখা পড়ে শোনায় TTS সফটওয়্যার।
ব্রাউজারে TTS কেন ব্যবহার করবেন?
ব্রাউজারে TTS ব্যবহারের অনেক কারণ আছে।
এই প্রযুক্তি একসাথে অনেক কাজের সুযোগ দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। যেমন, আপনি কিছু ঠিকঠাক করতে করতে TTS টিউটোরিয়াল শুনতে পারেন। অথবা গুগল ডক্স-এ কাজ করেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুনে নিতে পারেন।
সংক্ষেপে, TTS দিয়ে আরও অনেক কিছু করা যায়।
টেকনোলজিটি চলতে ফিরতে পড়তে ভালোবাসাদের জন্যও দারুণ। ধরুন, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আপনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কিছু আর্টিকেল পড়তে চান। TTS রিডার সেই আর্টিকেলগুলো পড়ে শোনাবে, আপনি পথে হাঁটতে হাঁটতেই শুনে ফেলতে পারবেন।
ব্রেভ-এ টেক্সট টু স্পিচ — চলে কি?
টেক্সট টু স্পিচ সফটওয়্যার ব্রেভ-এ চলে, তবে প্রত্যাশামতো ভালো কাজ নাও করতে পারে। ব্রাউজারটি এখনও তুলনামূলক নতুন ও কম ব্যবহৃত হওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।
অনেক ব্যবহারকারী ব্রেভে TTS ব্যবহারে বাগ খুঁজে পেয়েছেন। যেমন, কোনো অংশ নির্বাচন করলে, পুরো ওয়েব পেজই পড়ে ফেলে। অনেকগুলো এক্সটেনশন থাকলে, TTS ও স্পিচ রিকগনিশন সফটওয়্যার ঠিকমতো কাজ করতে চায় না।
কেউ কেউ ব্রেভের জন্য আলাদা TTS রিডার তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে, আপাতত ব্রেভ-এ টেক্সট টু স্পিচ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারেন।
এক্সটেনশনের জন্য ক্রোমকেই সুপারিশ করি
এসব সমস্যা বিবেচনায়, ব্রেভে TTS রিডার ফিচার বেশ সীমিত। তাই টেক্সট টু স্পিচ চালাতে চাইলে গুগল ক্রোম ব্যবহার করারই পরামর্শ দিই।
ব্যবহারকারীরা আরও অনেক ক্রোম এক্সটেনশন ও উন্নত TTS সাপোর্ট পান।
ক্রোম-এ স্পিচিফাই ইন্সটল করার নিয়ম
iOS, Android ও macOS ছাড়াও, স্পিচিফাইয়ের ক্রোম এক্সটেনশন আছে। এক্সটেনশনটি বিনামূল্যে স্পিচিফাই ওয়েবসাইট থেকে ট্রাই করতে পারেন:
- Speechify Chrome Extension পেজে গিয়ে "Add to Chrome" ক্লিক করুন।
- পছন্দের ভয়েস, গতি, প্রয়োজন আর লক্ষ্য সিলেক্ট করুন।
- একাউন্ট খুলে এক্সটেনশন ডাউনলোডের জন্য নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ডাউনলোড হয়ে গেলে, আপনি কিছু দুর্দান্ত ফিচার পাবেন:
- ইনলাইন প্লেয়ার পড়তে লাগবে কতক্ষণ, তা দেখায়; ইচ্ছেমতো প্লে আর পজ করতে পারেন।
- Active টেক্সট হাইলাইটিংয়ে Speechify কোন টেক্সট পড়ছে, তা সহজেই বোঝা যায়।
- API ইন্টিগ্রেশনে Speechify-এর প্রিমিয়াম মানের কণ্ঠ রয়েছে।
FAQ
ব্রেভ-এ টেক্সট টু স্পিচ ব্যবহারের সুবিধা কী?
ব্রেভে TTS ব্যবহারে লেখা পড়ে শোনার সুবিধা মেলে। তবে অন্যান্য ব্রাউজারের তুলনায় ব্রেভে এটি সবসময় মসৃণভাবে চলে না। বিকল্প হিসেবে গুগল ক্রোমে Speechify দিয়ে টেক্সট টু স্পিচ ব্যবহার করতে পারেন।
ব্রেভে কোন টেক্সট টু স্পিচ অ্যাপ আছে?
ব্রেভে বিল্ট-ইন কোনো টেক্সট টু স্পিচ অ্যাপ নেই, তবে Speechify দিয়ে সংবাদ বা Gmail পড়ে শোনার সুবিধা পাবেন।
পডকাস্ট তৈরি ও সম্পাদনার সফটওয়্যারের নাম কী?
অনেক পডকাস্ট তৈরির ও সম্পাদনার সফটওয়্যার আছে, যেমন GarageBand, Audacity। ভিডিও বা পডকাস্টের জন্য ভয়েসওভার তৈরি করতেও Speechify ব্যবহার করা যায়।

