গুগল ডক্সের অডিও ভয়েস টাইপিং
গুগল ডক্স (বা গুগল ডকুমেন্টস) আজকের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখার অ্যাপ, আর গুগল ডক্স ভয়েস টাইপিং ফিচার ব্যবহার করে এটাকে আরও সহজে কাজে লাগাতে পারেন। এই ফিচার স্পিচ রেকগনিশন সফটওয়্যার দিয়ে অডিও থেকে লেখা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং সাবটাইটেলও বানাতে পারে।
যারা টাইপ করা এড়িয়ে যেতে চান, তাদের জন্য এটি দারুণ সুবিধাজনক। গুগল ডক্স ভয়েস টাইপিং লেখালেখিতে নতুন পথ খুলে দেয় এবং আপনাকে সময় বাঁচাতে সাহায্য করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, যারা টাইপিংয়ে সমস্যা বা ডিসলেক্সিয়া-তে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি বিশেষ সহায়ক।
প্রায় সবারই আজ একটি গুগল অ্যাকাউন্ট আছে, আর অনেকে গুগল ডক্স বা গুগল স্লাইডস ব্যবহার করেন। গুগল ডক্স অডিও ভয়েস টাইপিং ব্যবহারও সহজ, কারণ আলাদা কোনো অ্যাকাউন্ট বা নতুন সফটওয়্যার শিখতে হয় না।
গুগল ডকে ভয়েস দিয়ে টাইপ করুন
টাইপ করার বদলে কণ্ঠ ব্যবহার করার সুযোগ অনেকেই পছন্দ করেন। সবাই খুব দ্রুত টাইপ করতে পারেন না, তাই এতে বেশ খানিকটা সময় বাঁচে।
প্রতিদিনের কাজে স্পিচ-টু-টেক্সট (STT) টুলের অনেক সুবিধা আছে। কারো জন্য এটি সময় বাঁচায়, আবার অনেকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা কাটাতে ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করেন। এসব টুল অ্যাক্সেসিবিলিটি অনেক বাড়ায়।
STT টুলের সবচেয়ে বড় সুবিধা — ব্যবহার করা ভীষণ সহজ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধু একটি বোতাম চাপলেই অ্যাপটি আপনার কথা শোনা শুরু করবে।
এতে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ না হলেও অনায়াসে ভয়েসে লেখা সম্ভব হয়ে যায়। যোগাযোগ সহজ করার ক্ষেত্রে স্পিচ-টু-টেক্সটের এটাই বড় শক্তি।
যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেমন গাড়ি চালানোর সময় বার্তার উত্তর দিতে হলে, টাইপ না করে STT দিয়ে সহজেই পাঠাতে পারবেন। এতে ঝুঁকিও অনেক কমে।
স্পিচ-টু-টেক্সট ফ্লেক্সিবিলিটিও বাড়ায়, কারণ অফিসের বাইরে থেকেও কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। যে কোনো ডকুমেন্ট লিখতে হাঁটতে হাঁটতে ডিকটেশন দিতে পারবেন—শুধু শেষে একটু প্রুফরিডিং করলেই চলবে।
যদি পিসি ব্যবহার করেন, তাহলে আলাদা মাইক্রোফোন লাগবে, নইলে পিসি আপনার কণ্ঠ ঠিকমতো ধরতে পারবে না। স্মার্টফোনে সাধারণত আগেই বিল্ট-ইন মাইক্রোফোন থাকে।
গুগল ডক্সে STT ব্যবহার করে পুরো ডকুমেন্টই সহজে বলে বলে লিখে ফেলতে পারবেন!
গুগল ডক্সে স্পিচ-টু-টেক্সট ব্যবহার
শুধু সময়ই বাঁচায় না, স্পিচ-টু-টেক্সট সফটওয়্যারে আরও অনেক দরকারি ফিচার আছে। বেশিরভাগ অ্যাপই মূলত ডিসলেক্সিয়া-তে ভুগছেন এমনদের সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে ডিজাইন করা।
অনেকে জানেন, ডিসলেক্সিয়া মানে পড়তে সমস্যা; প্রায়ই লিখতেও অসুবিধা হয়। স্পিচ-টু-টেক্সট এই বাধা অনেকটাই সরিয়ে দিতে পারে এবং সত্যিকারের হ্যান্ডস-ফ্রি মেসেজিং সম্ভব করে।
গাড়ি চালানো, রান্না করা, বা ঘরের কাজ — যখনই ব্যস্ত থাকেন, নিজের কথা ডিক্টেট করলে ডিভাইস নিজে থেকেই সেই কথাকে লেখা বানিয়ে ফেলে।
অন্ধ বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য টাইপ করা বেশ কঠিন, সেখানে STT সফটওয়্যার বড় সহায়ক। আজকাল স্মার্টফোনে শারীরিক বোতামও খুব কম, তাই টাইপ করাও বাড়তি ঝামেলা।
বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্সেসিবিলিটি টুল থাকলেও, STT ব্যবহার করা অনেক সহজ। আধুনিক ডিভাইসে এটি অন্যতম সেরা সুবিধা — সত্যিই দৃশ্যমান পরিবর্তন এনে দেয়।
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট থাকলে স্পিচ রেকগনিশনের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। নোট, একাডেমিক পেপার, বা সিভি — গুগল ডক্সে স্পিচ-টু-টেক্সট সব ক্ষেত্রেই দারুণ কাজ দেবে!
গুগল ডক্সে ভয়েস টাইপিং কীভাবে করবেন
গুগল ডক্সের ভেতরেই একটি স্পিচ-টু-টেক্সট টুল ইন-বিল্ট আছে। এটি গুগল ক্রোমে পাওয়া যায়, যেকোনো ডিভাইসে এই ব্রাউজার থাকলেই শুরু করতে পারবেন। নতুন ডকুমেন্ট খুলুন, আর লেখার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান।
সবার আগে মাইক্রোফোন চালু করতে হবে। দরকার হলে পারমিশন ঠিক করে নিন আর ডিভাইস যেন ঠিকমতো মাইক চিনতে পারে তা নিশ্চিত করুন। ম্যাক বা PC-এর ওপর নির্ভর করে মাইক সেটিংস আলাদা হবে।
ভয়েস টাইপিং চালাতে হলে স্ক্রিনের ওপরের Tools মেনুতে ক্লিক করুন। ড্রপডাউন মেনুতে Voice Typing অপশন পাবেন, সেটি দিয়ে রেকর্ডিং শুরু হবে। কীবোর্ড শর্টকাট CTRL+SHIFT+S দিয়েও চালু করতে পারেন। স্ক্রিনে মাইক্রোফোন আইকন ভেসে উঠবে, প্রস্তুত হলে তাতে ক্লিক করুন।
ভয়েস ডিক্টেশন সত্যিই খুব সহজ। গলা ফাটিয়ে কিছু বলতে হবে না, মাইক্রোফোন স্বাভাবিক সুরেই শব্দ তুলে নেবে। শুধু স্পষ্ট উচ্চারণে বলুন। প্রশ্নবোধক বাক্য হলে স্বরে একটু ওঠানামা রাখলেই চলে।
টাইপে ভুল হলে, কার্সর দিয়ে ভুল শব্দ ঠিক করে নিতে পারবেন; মাইক্রোফোন বন্ধ করার দরকার নেই। এ্যাপে কিছু ভয়েস কমান্ডও আছে, যেমন “italics” বা “select paragraph” বললে নিজে থেকেই কাজটা করে দেবে।
TTS নিয়ে কী?
এখন যেহেতু স্পিচ-টু-টেক্সট সম্পর্কে জানলেন, এবার উল্টো দিকটা দেখি — টেক্সট-টু-স্পিচ। টেক্সট-টু-স্পিচ (TTS) টুল যেকোনো লেখা কৃত্রিম কণ্ঠে জোরে পড়ে শোনায়।
প্রায় সব আধুনিক ডিভাইসেই আজ টেক্সট-টু-স্পিচ ফিচার থাকে। অ্যান্ড্রয়েড, iOS, macOS, আর উইন্ডোজ—সব প্ল্যাটফর্মেই বিভিন্ন TTS অ্যাপ আছে, যেগুলো ডিভাইসের অ্যাক্সেসিবিলিটি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
স্পিচ-টু-টেক্সট ও টেক্সট-টু-স্পিচ চাইলে পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারবেন; আগে ভয়েসে লিখে তারপর TTS দিয়ে সেটি শুনে দেখতে পারেন। ইচ্ছে হলে নতুন অ্যাপও ইনস্টল করতে পারেন।
বহু ধরনের TTS অ্যাপ আছে। প্রত্যেকটির বৈশিষ্ট্য আলাদা, তবে স্বাভাবিক কণ্ঠের অপশন থাকাটা সবচেয়ে জরুরি।
সেরা টেক্সট-টু-স্পিচ অ্যাপ খুঁজলে Speechify বেছে নিন। এ্যাপটি সব ধরনের ডিভাইসে চলে এবং যেকোনো টেক্সট ফাইল খুব সহজেই অডিওতে রূপান্তর করতে পারে।
Speechify-এর বড় সুবিধা— এতে উচ্চমানের কণ্ঠের অপশন আছে এবং এটি অনেক প্ল্যাটফর্মে সমানভাবে ভালো চলে।
টেক্সট-টু-স্পিচ এবং স্পিচ-টু-টেক্সট একসঙ্গে ব্যবহার
Google Docs-এ Speechify ব্যবহার করলে অ্যাক্সেসিবিলিটি আরও বাড়ে। ডকুমেন্ট ডিকটেট করে লিখে নিতে পারবেন ভয়েস টাইপিং দিয়ে, আর পরে Speechify দিয়ে খুব সহজে প্রুফরিড করে নিতে পারবেন।
ডকুমেন্ট একসঙ্গে দেখে আর শুনে নেওয়ার এর চেয়ে সহজ পদ্ধতি প্রায় নেই। এতে বোঝার সুবিধা বাড়ে, আর দরকার হলে ঠিক কোথায় উন্নতি দরকার তাও সহজে ধরা যায়।
আপনি চাইলে আলাদাভাবেও এ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারেন এবং যেকোনো টেক্সটকে বক্তৃতায় পরিণত করতে পারেন। Chrome extension দিয়ে কাজটা একেবারেই সহজ, আর আলাদা কোনো টিউটোরিয়াল প্রায় লাগে না—তবে চাইলে অনলাইনে অনেক গাইড পেয়ে যাবেন।
Chrome ব্রাউজারের মাধ্যমে এগুলো ব্যবহার করে পারবেন শুধু গুগল ডক্স বা স্লাইডস নয়, অন্য যেকোনো ওয়েবসাইটেও। Speechify ফ্রি ব্যবহার করা যায়, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী মূল্য পরিকল্পনাও নেওয়া যাবে।
অডিও গুগল ড্রাইভে সংরক্ষণ করুন, যেখানেই যান সেখানেই শুনুন, অথবা লেখালেখি ও সম্পাদনার পুরো প্রক্রিয়া আরও ঝামেলামুক্ত করতে ব্যবহার করুন।

