টেক্সট-টু-স্পিচ ইমেইল রিডার
টেক্সট-টু-স্পিচ বা TTS ইমেইল রিডার দিয়ে খুব সহজে দক্ষতা বাড়ানো যায়, ইমেইল পড়ায় সময়ও কম লাগে, আর পছন্দ করার মতো অনেক দুর্দান্ত অপশনও পাবেন!
TTS ইমেইল রিডারের উপকারিতা
টেক্সট-টু-স্পিচ প্রযুক্তি দিয়ে অনেক কিছু করা যায়, আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সময় বাঁচানো। প্রতিদিন ইমেইল দেখা অনেক সময়সাপেক্ষ, আর কাজের শুরুতেই অনেকের কাছে একঘেয়ে লাগে।
TTS রিডার থাকলে পড়ার বদলে শোনার মাধ্যমে সব ইমেইল অনায়াসে দেখে নেওয়া যাবে। পাশাপাশি মাল্টিটাস্কিংও সহজ হবে। চাইলে ফোনে টেক্সট-টু-স্পিচ টুল ইন্সটল করে হেডফোন/ব্লুটুথ স্পিকার দিয়ে ইমেইল শোনা যায়।
এগুলো দক্ষতা বাড়ায়, সময় বাঁচায় এবং আপনাকে আরও আকর্ষণীয় কাজে সময় দিতে সাহায্য করে। অনেকে মাল্টিটাস্কিং পছন্দ করেন। মোটামুটি ৫০% পাঠক অডিওবুক বা টেক্সটের অডিও সংস্করণে আগ্রহী।
কোনো টেক্সট-টু-স্পিচ টুল খোঁজা বেশ সহজ, আর হাতে অনেক বিকল্পও থাকে। এগুলোর ভয়েস খুবই স্বাভাবিক, আসল কণ্ঠ থেকে আলাদা করা কঠিন। অ্যাপ চালানোও আবার একদম সহজ!
TTS ইমেইল রিডার সেটআপ করবেন কীভাবে
সবার আগে ঠিক করুন আপনি টেক্সট-টু-স্পিচ রিডার পিসি, স্মার্টফোন না দুটিতেই ব্যবহার করবেন। অ্যাপগুলো অ্যান্ড্রয়েড, আইপ্যাড, আইফোন, উইন্ডোজ পিসি এবং ম্যাক—সবখানেই সমর্থিত।
কোন ডিভাইসে ব্যবহার করবেন ঠিক হলে অ্যাপ ডাউনলোড ও ইন্সটল করুন। সৌভাগ্যক্রমে, প্রক্রিয়াটা খুবই সহজ। ইন্সটল হয়ে গেলে চালু করলেই ব্যবহার শুরু করতে পারবেন। নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অ্যাপভেদে আলাদা হতে পারে।
এছাড়া, অনেক অ্যাপই গুগল ক্রোম-এর মতো জনপ্রিয় ব্রাউজার সমর্থন করে, ফলে এক্সটেনশন হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। শুধু ইমেইল ওপেন করুন, অ্যাপ চালু করুন এবং টেক্সট সিলেক্ট করে শুনুন।
আপনি যে অ্যাপটি বেছে নেবেন, তার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ভয়েস, অ্যাকসেন্ট ও ভাষা বেছে নিতে পারবেন। স্পিড অ্যাডজাস্ট ও পুরো এক্সপেরিয়েন্স নিজের মতো সাজানোর সুবিধাও থাকবে। সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপ Speechify কয়েক মিনিটেই সেটআপ করা যায়, আর কাস্টমাইজেশনের অপশনগুলোও দারুণ!
Speechify-এর মোবাইল অ্যাপ প্রায় যেকোনো ডিভাইসে (অ্যাপল iOS এবং অ্যান্ড্রয়েড) চলে, আর এর ইন্টারফেসও খুবই ঝামেলাহীন। যে কেউ সহজেই শিখে নিয়ে নিজের ইমেইল আউট লাউড শুনতে পারবেন, তাও খুব তাড়াতাড়ি।
ইমেইল রিডার দিয়ে কিভাবে দক্ষতা বাড়াবেন
বিভিন্নভাবে টেক্সট-টু-স্পিচ রিডার আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ইমেইল পড়ার ক্ষেত্রে। প্রত্যেকের গতি আলাদা, পড়ার ক্ষেত্রেও তাই।পাঠ-এর ক্ষেত্রেও একই কথা।
অনেকে বড় বড় টেক্সট পড়তে গিয়ে চাপে পড়েন। কারও ডিসলেক্সিয়া বা পড়ার অসুবিধা বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা থাকতে পারে। অ্যাপ দিয়ে যদি সব টেক্সট শোনা যায়, অনেকের পড়া-সংক্রান্ত সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
এমনকি পড়ার কোনো সমস্যা না থাকলেও ইমেইল রিডার ব্যবহার বেশ উপভোগ্য। চেয়ার আর মনিটরে বেঁধে না থেকে অন্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে ইমেইল শুনে নেওয়া যায়—এটা অনেকেরই পছন্দের একটা সুবিধা।
TTS ইমেইল রিডার আপনাকে অফিসে অন্য কাজ সেরে নেওয়ার ও দিনের আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় করে দেয়। অবশ্য কিছু সময় এমনও আসবে যখন কনটেন্টে পুরো মনোযোগ দিতে হবে, তখন মাল্টিটাস্কিং করা যাবে না।
পারফেক্ট টেক্সট-টু-স্পিচ রিডার হিসেবে Speechify
Speechify অন্যতম সেরা টেক্সট-টু-স্পিচ অ্যাপ। এটি ইমেইল রিডার হিসেবে কাজ করে, আবার অন্য যেকোনো টেক্সট কনটেন্টের জন্যও ব্যবহার করা যায়। Speechify-এর API ইমেইল ও ওয়েব পেজে চলে, আর বিল্ট-ইন OCR দিয়ে ফিজিক্যাল পেজ স্ক্যান করে স্বাভাবিক ভয়েসে শোনায়।
Speechify দিয়ে আপনি যেকোনো টেক্সট অডিও ফাইলে রূপান্তর করতে পারবেন, ব্যবহারও খুব সহজ। অ্যাপটি বহুমুখী, আর কাস্টমাইজেশনেরও ভালো সুযোগ আছে। সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে সুবিধাজনক টিউটোরিয়ালও দেয় Speechify।
Speechify-এ পড়ার স্পিড নিজের মতো করে ঠিক করতে পারেন—অপ্রয়োজনীয় ইমেইল ঝটপট শুনে ফেলুন, জরুরি কিছু থাকলে ধীরে শুনুন। Speechify সাপোর্ট করে Gmail, Microsoft Outlook এবং অন্য জনপ্রিয় ইমেইল প্ল্যাটফর্ম। Speechify বাংলাসহ ডজনখানেক ভাষায় টেক্সট পড়ে শোনাতে পারে!
ইমেইলে Speechify ব্যবহারের অন্যতম সহজ উপায় হল ব্রাউজার এক্সটেনশন, যার সেটআপও খুব সহজ। ইমেইলের যে অংশ পড়ে শোনাতে চান, সেটুকু সিলেক্ট করলে শুধু সেই অংশই পড়বে। চাইলে স্বাক্ষর বা হেডারও স্কিপ করতে পারেন।
FAQ
ইমেইল কিভাবে পড়ে শোনাবো?
অনেক অ্যাপ দিয়ে পড়ার বদলে ইমেইল শুনতে পারবেন। এর মধ্যে জনপ্রিয় অপশন Speechify; এটি পিসি ও স্মার্টফোন—দুই জায়গাতেই চলে। ব্যবহার যত সহজ, অভিজ্ঞতাও তত ভালো।
Speechify অ্যাপ অ্যাপস্টোর বা গুগল প্লে থেকে ডাউনলোড করুন, তারপর ব্রাউজারে চালান, টেক্সট সিলেক্ট করুন আর রিয়েল টাইমে শুনুন। স্পিচ ফিচার বাকিটা সামলে নেবে। শর্টকাট ব্যবহার করেও কাজটা আরও দ্রুত করা যায়।
আমি কী ইমেইল বলেও পাঠাতে পারি?
হ্যাঁ, পারবেন। স্পিচ রিকগনিশন/ভয়েস রিকগনিশন (যেমন Siri) সমর্থন করে এমন অ্যাপ লাগবে। এতে ডিকটেশন ও ভয়েস কমান্ড দিয়ে ইমেইল লেখা যায়। তবে, সব টেক্সট-টু-স্পিচ সফটওয়্যারে এই সুবিধা থাকে না; আলাদা ডিকটেশন অ্যাপও লাগতে পারে।
Speechify কি ইমেইল পড়তে পারে?
Speechify মূলত যারা ডিসলেক্সিয়া-তে ভোগেন তাদের জন্য তৈরি হলেও, এখন যেকেউ খুব সহজে ব্যবহার করতে পারেন। যেকোনো ইমেইল টেক্সটকে স্বাভাবিক ভয়েসে রূপান্তর করে আওয়াজে শোনায়।
শুধু টেক্সট সিলেক্ট করুন, তারপর অ্যাপ চালান। চাইলে আলাদা টেক্সট-টু-স্পিচ ভয়েসও বেছে নিতে পারবেন, আর এটি একাধিক ভাষায় কাজ করে। Speechify-তে ফ্রি ও পেইড সাবস্ক্রিপশন—দুই ধরনের অপশনই আছে, তাই আপনার দরকার অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন।

